, , ।
কালাই প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাইয়ে কৃষিপূণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জায়গা নির্ধারণে মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে। শুক্রবার ২৪ জুলাই জনপ্রসাশন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী এবং কৃষি সচিব ড. রফিকুল -ই- মোহাম্মদ সরজমিনে এসে কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বামনাহানি মৌজায় জায়গা নির্ধারণ করতে জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের উত্তরপাশের মাঠ পরিদর্শন করেন।
বর্তমান সরকার এ জেলার কৃষি পূণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে জায়গা নির্ধারণের জন্য এ পরিদর্শনের আয়োজন করেন। প্রায় একশ একর (৩’শ) বিঘা জায়গার উপর কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল স্থাপন করা হবে বলেও জানান কৃষি বিভাগ।
এ সময় কৃষি মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাদিকুল ইসলাম, কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লা আল মাহবুব, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুনুর রশিদ।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাট। এই জেলায় প্রতিবছর গড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়। এর মধ্যে শুধু কালাইয়েই সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করে কৃষকরা। বলতে গেলে সারা বাংলাদেশে আলু চাষে দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা জয়পুরহাট। উৎপাদিত আলুর গড়ে ৩০ শতাংশ জয়পুরহাটের ১৯টি হিমাগারে সংরক্ষণ হয়ে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলের চাষীরা আলু চাষ করে শুধুমাত্র রপ্তানি না হওয়ায় মোটা অংকের লোকশান গুনেছে। ভেঙ্গেছে অনেকের অর্থনেতিক মেরুদন্ড। ফলে আলু চাষে বিমুখ হচ্ছে চাষীরা।
রপ্তানিকারকদের মতে, এক সময় প্রচুর পরিমাণ আলু রপ্তানি হত। গত কয়েক বছর ধরে অন্যান্য সবিজ রপ্তানি করা হলেও আলুর রপ্তানি নেই বললেই চলে। কারণ হিসেবে তারা বলেন, আগে আলু রপ্তানিতে সরকারের পক্ষ থেকে ২০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হলেও গত কয়েক বছর ধরে তা কমে ১০ শতাংশ করা হয়েছে, ফলে রপ্তানি কম হচ্ছে। এতে সংরক্ষণ করে প্রতিনিয়ত চাষীরা লোকশান গুনছেন। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে অবশ্যই রপ্তানির উপর জোর দিতে হবে এবং এলাকা ভিত্তিক কৃষি জোন গড়তে হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার যে উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন, তা স্থাপন করা হলে চাষীরা লাভবান হবেন। বিশেষ করে আলুভিত্তিক করা হলে যেমন এ এলাকার কর্মসংস্থান হবে; তেমনই চাষিরা আলুর ন্যায্যমূল্য পাবেন। এতে সরকারও বড় অঙ্কের রাজস্ব পাবে।’