, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনা দলের হাতে ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে প্রদর্শিত ব্যানারকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ফিফার তদন্তের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিশ্বকাপ আমাদের না-ও হতে পারে, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অবস্থান বদলায়নি। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের।’
ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮৩৩ সাল থেকে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত এক গণভোটে দ্বীপপুঞ্জের ৯২ শতাংশ ভোটার ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের অধীনেই থাকার পক্ষে ভোট দেন। সরকারের মুখপাত্র বলেন, আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবির মুখেও যুক্তরাজ্যের অবস্থান ‘কখনোই বদলাবে না।’
এর আগে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানমন্ত্রী পিটার কাইল বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ব্যানার প্রদর্শনকে ‘সম্পূর্ণ অনুচিত’ বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, ‘ফুটবলে রাজনীতির স্থান হওয়া উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি, ফিফা বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে। বিশ্বকাপের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো-রাজনীতিকে ফুটবল থেকে আলাদা রাখা।’
বুধবার সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ‘খধং গধষারহধং ংড়হ অৎমবহঃরহধং’ (ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক বিরোধের প্রেক্ষাপটেই ব্যানারটি প্রদর্শন করা হয়।
তবে ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ও ফিফা আটলান্টার স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত পতাকা বা ব্যানার বহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ফকল্যান্ড-সংক্রান্ত ব্যানারও সেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। এরপরও কীভাবে ব্যানারটি স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে এবং ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের হাতে পৌঁছায়, তা নিয়েই তদন্তের দাবি তুলেছে ব্রিটিশ সরকার।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়ের সঙ্গে ফকল্যান্ড ইস্যুকে এক করে দেখা উচিত নয়। তিনি ক্রীড়া সাফল্যকে রাজনৈতিক বিরোধ থেকে আলাদা রাখার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। উভয় দেশই দ্বীপপুঞ্জের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে এবং বিষয়টি এখনো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিতর্কের অংশ।