সর্বশেষ সংবাদ :

সরকারি স্কুলে ভর্তি করাতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে

বদলগাছী প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুলে বিভিন্ন ক্লাসে শিক্ষার্থী ভর্তির শর্তে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান মামুনের বিরুদ্ধে। তিনি ঐ বিদ্যালয়ের ভৌত বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক।
১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বদলগাছী পাইলট হাই স্কুল ২১ মে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয়করণ হয়। এরপর থেকেই সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতি ক্লাসে দুইটি শাখায় মোট ১১০ জন শিক্ষার্থী লটারির মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ পায়। শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি প্রধান শিক্ষকগণ খুব কঠোরতার সাথেই নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাফফর হোসেন অবসরে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আব্দুল খালেক। এরপর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান মামুন। তার বিরুদ্ধে সুযোগ বুঝে শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নাম করে সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। বছরের শুরুতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৫০২ জন কিন্তু গোপনে ভর্তির কারণে তা দাড়িয়েছে ৫৪৬ জন।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেসকাত জান্নাত মোহনার বাবা মাজেদুল ইসলাম বলেন, সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান মামুন আমার মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে পাঁচ হাজার টাকা নেন এবং তার কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে বলেন। পরবর্তীতে আবারও দুই হাজার টাকা নেন। কিন্তু তিন দিন আগে আমাকে টাকা ফেরত দিয়ে বলেন মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারবেন না। দুই দিন পর পরীক্ষা, আমি এখন মেয়েকে কোথায় ভর্তি করাবো। আমি ইউএনও মহোদয়কে অভিযোগ করে এসেছি।
আয়েশা সিদ্দিকা নামের নবম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীর মা রওশন আরা বলেন, ছয় মাস থেকে স্কুলে ভর্তি করানোর কথা বলে তার কোচিং সেন্টারে পড়াচ্ছে। স্কুলের সেশনফির কথা বলে ১,২০০ টাকা নিয়েছে। আরও চার হাজার টাকা চেয়েছে। এখন হঠাৎ করে বলছে ভর্তি করানো যাবে না।
অভিযোগটি অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান মামুন বলেন, আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কয়েকজন অভিভাবক তাদের সন্তান স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য আমার কাছে এসেছিলেন। কিন্তু আমি করাইনি। তাই আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার বিরুদ্ধে এসব প্রচারণা চালাচ্ছে।
বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, অভিযোগ শুনেছি কিন্তু আমাকে সরাসরি কেউ জানায়নি। ইউএনও স্যারকে অভিযোগ করেছেন। আমি ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মাউশিতে অভিযোগ দেব।
এ বিষয়ে বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুলের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি। অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে অভিযোগটি বিবেচনা করবো। এবং বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬ | সময়: ৪:০৩ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ