বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে আলু সংরক্ষণ ভাড়া নির্ধারণকে কেন্দ্র করে আলুচাষি, ব্যবসায়ী ও কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের মধ্যে বিরোধের জেরে জেলার ছয়টি কোল্ড স্টোরেজে (হিমাগার) কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গত ১৪ জুন থেকে আলু ক্রয়-বিক্রয় ও সংরক্ষণসংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কৃষক, ব্যবসায়ী ও মালিকপক্ষ সব পক্ষই ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
জেলা আলুচাষি ও আলু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত আলু সংরক্ষণ ভাড়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা হলেও কিছু হিমাগার মালিক অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণের চেষ্টা করছেন। সরকার নির্ধারিত ভাড়া পূর্ণ নির্ধারণের দাবি ৫ টাকা করা হোক এ দাবিতে তাঁরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।
অন্যদিকে কোল্ড স্টোরেজ মালিকেরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ সহ পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। বর্তমান ব্যয়ে সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
মোস্তফা কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের মালিক মোস্তফা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, সরকার চাইলে ভর্তুকির মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান করতে পারে।
বাবর কোল্ড স্টোরেজ (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়হান কবির রাজীদ বলেন, তাঁরা সরকারি আইন ও নির্দেশনা মেনেই পরিচালনা করতে চান। তবে চলমান পরিস্থিতি দুঃখজনক এবং দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
সেকেন্দার কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের মালিক সেকেন্দার বলেন, ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মালিকপক্ষও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই ক্ষতির দায় কে নেবে সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
হক কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল আহমেদ বলেন, কৃষকদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা কাজ করে আসছেন। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংকট নিরসনের আহ্বান জানান তিনি।
স্বনির্ভর আলু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি দুলাল বেপারী বলেন, জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তাঁদের আশা। সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করে দ্রুত এ অচলাবস্থার অবসান হওয়া প্রয়োজন।