সর্বশেষ সংবাদ :

আক্কেলপুর মহিলা কলেজে পুকুর ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্ব, অধ্যক্ষ অবরুদ্ধ ‎

আক্কেলপুর প্রাতনিধি: ‎জয়পুরহাটের আক্কেলপুর মহিলা কলেজের দুটি পুকুর ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কয়েকজন শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের সামনে অবস্থিত দুটি পুকুর ইজারা দেওয়ার জন্য আগে কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সম্প্রতি ইজারাদার পক্ষ পুকুরে মাছ চাষের প্রস্তুতি নিতে এলে কয়েকজন শিক্ষক জানতে পারেন যে পুকুর দুটি ইতিমধ্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
‎এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজের সহকারী গ্রন্থাগারিক ফারুক হোসেন চৌধুরী উৎপলসহ কয়েকজন শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবিদা সুলতানা কুইনের কক্ষে গিয়ে পুকুর ইজারা দেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে অফিস সহকারী চিত্ত রঞ্জনকে কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে ভেতরে রেখে দরজায় তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন অধ্যক্ষ।
পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিষয়টি আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর রহমান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে ইউএনও ও পুলিশ কলেজে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে অধ্যক্ষের কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
‎কলেজের শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, কলেজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য শিক্ষকদের সমন্বয়ে কমিটি রয়েছে। পুকুর দুটি ইজারা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু পরে গোপনে ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পারি। প্রকাশ্যে ইজারা দেওয়া হলে বেশি দর পাওয়া যেত এবং কলেজের আয় বাড়ত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শিক্ষকদের সাথে অশোভন আচরণ করেন।
‎তবে গোপনে পুকুর ইজারা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবিদা সুলতানা কুইন। তিনি বলেন, কলেজের মামলা পরিচালনাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের প্রয়োজন ছিল। পুকুর ইজারার অর্থও সে কাজে প্রয়োজন হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষক বিষয়টি জানতেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার কয়েকজন শিক্ষক আমার কক্ষে এসে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে অফিস সহকারীকে বের করে দিয়ে আমার কক্ষের বাইরে তালা লাগিয়ে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
অন্যদিকে সহকারী গ্রন্থাগারিক ফারুক হোসেন চৌধুরী উৎপল বলেন, পুকুর ইজারার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কোনো শিক্ষককে অবহিত করেননি। তিনি গোপনে ইজারা দিয়েছেন বলে আমাদের সন্দেহ। এ বিষয়ে জানতে তাঁর কাছে গিয়েছিলাম। আমরা কেউ অশোভন আচরণ করিনি এবং তাঁর কক্ষে তালাও দিইনি।‎
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর রহমান বলেন, খবর পেয়ে কলেজে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুকুর ইজারা সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬ | সময়: ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর