সর্বশেষ সংবাদ :

ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক নকল ও ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’

স্টাফ রিপোর্টার: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্মত ঔষধ নিশ্চিত করতে নকল, ভেজাল, নিবন্ধনহীন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহা. আলমগীর হোসেন। রাজশাহীতে ‘জেলা ওষুধের অনিয়ম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অ্যাকশন কমিটি’র এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক মোহা. আলমগীর হোসেন বলেন, ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে ফার্মেসিতে সঠিক তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণ করতে হবে। বিশেষ করে তাপ-সংবেদনশীল ওষুধ রেফ্রিজারেটরে সঠিক তাপমাত্রায় (২-৮ সেলসিয়াস) রাখা নিশ্চিত করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ওষুধের অবৈধ চেইন ভাঙতে তিনি সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধি, জনসচেতনতা জোরদার এবং সকল দপ্তরের কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে ওষুধ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় রাজশাহীর পুলিশ সুপার নাঈমুল হাসান বলেন, মাঠপর্যায়ে গোয়েন্দা তদারকির মাধ্যমে ওষুধের অনিয়ম সংক্রান্ত অপরাধ শনাক্তকরণে পুলিশ বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে। এছাড়া হোমিও ওষুধের আড়ালে যেন অসাধু উপায়ে অ্যালকোহলের ব্যবহার না হয়, সেজন্য মনিটরিং জোরদার করার কথা জানান তিনি। জেলার সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম. রাজিউল করিম ওষুধের ইথিক্যাল মার্কেটিং, ইথিক্যাল প্রেসক্রিপশন ও আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় বৃদ্ধির তাগিদ দেন এবং ওষুধের গুণগত মান বজায় রাখতে সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন সভায় জানান, ওষুধ উৎপাদনের পূর্বে কারখানাগুলো অধিদপ্তরের অনুমোদন ও ভ্যালিড সোর্স ছাড়া কাঁচামাল আমদানি করতে পারে না। স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ল্যাব রিপোর্ট সন্তোষজনক হলেই কেবল নতুন ওষুধ রেজিস্ট্রেশন ও বাজারজাতকরণের অনুমতি দেওয়া হয়।
মাঠপর্যায়ের চিত্র তুলে ধরে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা অবৈধ ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রি বন্ধে অসাধু ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ওষুধ প্রশাসনের জনবল সংকটের কারণে তদারকিতে কিছুটা সমস্যা হলেও এখন থেকে উপজেলায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, রাজশাহী জেলার ঔষধ বিক্রেতাদের সংগঠন বিসিডিএস-এর প্রতিনিধি সভায় জানান, ফার্মেসি কাউন্সিল থেকে ‘সি-গ্রেড’ ফার্মেসি টেকনিশিয়ান কোর্স দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় নতুন ড্রাগ লাইসেন্স আবেদন ও নবায়ন করা যাচ্ছে না। তিনি দ্রুত কোর্সটি চালুর জন্য মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম অ্যাকশন কমিটির এই সভার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্পন্ন ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগে ওষুধের অনিয়ম প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। সভায় জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬ | সময়: ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ