সর্বশেষ সংবাদ :

রিং জালের ফাঁদে বিলুপ্তির পথে দেশি প্রজাতির মাছ

হাফিজুর রহমান, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলা সহ বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চায়না দুয়ারি বা রিং জাল ব্যবহার করে অবাধে মাছ শিকারের ফলে দেশি মাছ ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বংশাই, ঝিনাই, বৈরান নদী, হামিল বিল ও বিলদুবলাই সহ বিভিন্ন বিলে এই ধরনের রিং জাল ব্যবহার হলেও কার্যকর নজরদারির অভাবে পরিস্থিতি তেমন উন্নত হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বৈরান নদীর যদুনাথপুর এলাকা, হামিল বিল ও বিলদুবলাই সহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি গ্রামে জেলে ও সাধারণ মানুষ রিং জাল ব্যবহার করে মাছ ধরছেন। বর্ষা মৌসুমে এই জালের ব্যবহার আরো বেড়ে যাবে। শনিবার ১৫ জুন উপজেলার যদুনাথপুরের বংশাই নদী ও পাইস্কা এলাকার বৈরান নদীর বিভিন্ন অংশ ও হামিল বিল এবং বিলদুবলাই সহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, এই জাল বিল ও নদীতে বসিয়ে মাছ ধরছেন অনেকেই।
মৎস্যসম্পদ সংশ্লিষ্টদের মতে, রিং জালে বড় মাছের পাশাপাশি মাছের ডিম রেনু ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যহৃত হচ্ছে। এক সময় এই পূনর্ভবা নদীতে জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত রিং জালের কারণে এখন মাছের সংখ্যা আশংকা জনকভাবে কমে গেছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করায় প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছ ধরা জেলেরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকের জালে মাছ না পড়ায় তারা পেশা পরিবর্তন করতেও বাধ্য হচ্ছেন। উপজেলায় প্রায় শতাধিক জেলে পরিবার সরাসরি বংশাই, বৈরাণ ও ঝিনাই নদীর মাছের উপর নির্ভরশীল। এদিকে ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে রিং জাল বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে ধনবাড়ী উপজেলা অতিরিক্ত দয়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে বলেন, নিষিদ্ধ জালের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ধনবাড়ীর হামিল বিল ও বিল দুবলাই এই দুই বিল এলাকায় মাইকিং সহ অভিযান পরিচালানা করা হয়েছে।
তবে অন্য নদী এলাকায় অভিযানের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন অপাতত এই দুই বিলেই অভিযান পরিচালনা হয়েছে। সঠিক তথ্য পেলে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান।


প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬ | সময়: ৪:০৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ