, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: বাগমারার নরদাশ ও গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের কোলাবিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতি, সম্পাদক ও ক্যাশিয়ার সহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রকল্পের প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিল সংলগ্ন কোয়ালীপাড়া, চন্ডিপুর, মনোপাড়া ও চাঁইসার গ্রামের শতশত ভুক্তভোগী কৃষক ও প্রকল্পের সদস্যরা।
শনিবার সন্ধ্যায় মনোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন হাটগাঙ্গোপাড়া-নরদাশ সড়কের দুই পার্শ্বে দাঁড়িয়ে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন প্রকল্পের ভুক্তভোগী সদস্য চাঁইসারা গ্রামের গ্রাম প্রধান হাসান আলী, কোয়ালীপাড়া গ্রামের গ্রাম প্রধান ইয়াকুব আলী, চন্ডিপুর গ্রামের গ্রাম প্রধান আলা উদ্দিন, আশরাফুল ইসলাম, হাচেন আলী ও আব্দুল আজিজ প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, কোলাবিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতি প্রভাষক আলতাব হোসেন, সম্পাদক মাস্টার হোসাইন মোবারক, ক্যাশিয়ার আসাদুল ইসলাম ও সদস্য নুরুল ইসলাম মাছের কম দামের খাদ্য কিনে বেশি ভাউচার দেখিয়ে এবং নিম্নমানের খাদ্য ক্রয় সহ বিভিন্নভাবে প্রতারণার মাধ্যমে প্রকল্পের প্রায় আড়াই কোটি আত্মসাত করেছেন। এ বিষয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক ডাকা হলেও তারা হাজির না হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাছাড়া আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা ষড়যন্ত্র করে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ও জিডি করে হয়রানি করাচ্ছে।
এদিকে অভিযুক্ত আসাদুল ইসলাম নিজে প্রকল্পের ৪৯ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা খরচের কথা স্বীকার করে বলেছেন, স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে কিছু টাকা মাফ চেয়ে ৪৫ লক্ষ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমি বিষয়টি নিষ্পত্তি করে নিয়েছি। এর মধ্যে নগদ দুই লক্ষ টাকা তাৎক্ষণিকভাবে জমা দিয়েছি এবং বাঁকি ৪৩ লক্ষ টাকা পরিশোধের জন্য আগামী ৭ দিনের সময় নিয়ে তাদের জিম্মায় আমার স্বাক্ষরিত দুইটি চেকের পাতা ও ছয়শত টাকা মূল্যের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প জমা রেখেছি।
এমন স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার পায়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রকল্পের সদস্য হাসান আলী, ইয়াকুব আলী সহ ভুক্তভোগি আরো অনেকে।
তারা বলেন, আসাদুল স্বেচ্ছায় চেকের পাতা ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেওয়ার পর এখন আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করার পায়তারা করছে।