সর্বশেষ সংবাদ :

লতিবের বাগানে ২৫ প্রজাতির বিদেশী ফল

আসাদুজ্জামান মিঠু: করোসল, এ্যাভোকাড, কাজুবাদাম, পেস্তা বাদাম, লঙ্গন, আলু বোখরা, লবঙ্গ, সাদা জাম, ডেওয়া(বনকাঠাল) শরিফা ফল (মেওয়া)ও কাবাব চিনি এমন সব ফল বরেন্দ্রে পোড়া মাটিতে হবে এমন চিন্তা কৃষকদের ভাবনার বাইরে। তবে লতিব সরদার তার মনেরশক্তি দিয়ে বরেন্দ্রে পোড়া মাটিকে সোনার মাটি হিসাবে গড়ে তুলেছেন বিদেশেী ফলের বাগান। তার ছোট বাগানের প্রায় ২৫ প্রজাতী বিদেশী ২০ প্রজাতী দেশি ফল গাছ আছে। প্রায় সব গুলোতে ফল ধরেছে।
বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে পরিচিত রাজশাহী তানোর উপজেলা মুন্ডুমালা পৌরসভার মুন্ডুমালা সাহাজিপাড়া মৃতু ইউনুস সরদারে পুত্র কৃষক আব্দুল লতিব সরদার (৫৮)। যুবক বয়স থেকেই তার ফলসহ নানান জাতের গাছ লাগানোর নেশা।
এছাড়া তার বাগানে রয়েছে, বিদেশী ওল, জলপাই, হরতকী, আমলকী, চার প্রকার কলা ১০ প্রজাতী আম, দেশি লেবু বেদনা, লিচু, দেশি বেল, কদবেল কি নাই তার বাগানে।
কৃষক লতিব সরদার জানান, এমনিতেই বাড়ি চারপাশে যুবক বয়স থেকে দেশি ফলের বাগান করতে তার বেশ নেশা ছিল। গড়ে তুলেছেন তাই। এর মধ্যে গত ৮ বছর আগে নিজের চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। ভারতে গিয়ে তিনি ফলের দোকানে ফল কেনতে গিয়ে নানান দেশের বিদেশী দেখতে পান। দোকানি কাছে থেকে ফলের নামগুলো জেনে লিখে রাখেন। এবং সেখানে ১৫ প্রজাতী বিদেশী ফল কেনে খেয়ে দেখেছেন তিনি।
সেই থেকে কৃষক লতিব সরদারের চিন্তা শুরু হয় এসব বিদেশী ফলের গাছ তিনি নিজের বাগানেই লাগাবেন। কিন্ত বাধা হয়ে দাড়াই তার বাড়ির বরেন্দ্রে পোড়া মাটিতে কড়া শুকনো মাটিতে কি এসব গাছ হবে। কিন্ত তার চিন্ত ও মনের ইচ্ছা শক্তি সরব ছিল। এ মাটিতে তিনি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করে। বর্তমানে তিনি সফলও হয়েছেন।
লতিব সরদার বলেন, তার সখ ও ইচ্ছা শক্তি প্রতিফলন ঘটাতে নিজের মোবাইলে ইউটিউব ঘাটাঘাটি শুরু করে এসব বিদেশী ফলের চারার সন্ধান শুরু করেন আর পেয়ে যান যশোহর জেলার একটি নার্সারিতে। সেখানে অনলাইনে অর্ডার দিয়ে পেয়ে একে একে পর্যয় ক্রমে যান তার স্বপ্নের ফলের গাছ গুলো। প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর ধরে লাগানোর গাছগুলো প্রায় সবগুলো ফল ধরছে কয়ে বছর ধরে।
লতিব সরদার এখন পর্যন্ত বানিজ্যিক ভাবে ফল বিক্রি করেনি। এসব ফল নিজে ও আত্ময়স্বজন ও প্রতিবেশীদের দিয়ে খেয়ে থাকেন।
লতিব সরদার জানান,করোসল ফলের জুস খেলে মরণ ব্যাধি ক্যান্সারের মত রোগ ভাল হয়। এসব বিদেশী ফল দেখতে অনেক দুর থেকেও লোকজন আসে। এ বছর তার গাছে বিদেশী জাতের ফল গুলো অনেক ধরেছে। খাওয়ার উপযুগি হয়ে উঠেছে।
কৃষক লতিব সরদার জানান,আরো বেশ কিছু বিদেশী ফলের গাছ এ বরেন্দ্রে কড়া মাটি বাচাতে পারিনি। এগুলো হলো এ্যাপ্রিকট,রাম্বটান,পারলিমন ডুরিয়ান ও ননিফল। এ গাছগুলো এক বছরের মাথায় মরে যায়।
তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (মুন্ডুমালা পৌর দায়িত্বপ্রাপ্ত) রাজিউল হক জানান, কৃষক আব্দুল লতিব সরদার এক জন সুশিক্ষিত আদর্শ কৃষক। কৃষির পাশাশি তিনি বাড়ি চারপাশ মিশ্র ফল বাগান গড়ে তুলেছেন।
বিদেশী ফলগুলোর মধ্যে করোসল, এ্যাভোকড কাজুবাদামসহ অন্য সব ফলগুলো বরেন্দ্রের মাটিতে ফল ধরবে ভাবতে পারিনি। তবে তাকে এসব ফলের চাষাবাদের বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষে থেকে আরো উৎসাহ জোগানো হচ্ছে।


প্রকাশিত: May 17, 2026 | সময়: 5:00 am | সুমন শেখ

আরও খবর