, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিরামপুর এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, বাবর সরকার নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি আদালতে মামলা দায়েরের পর স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় জোরপূর্বক জমি দখল করেছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিপক্ষ আলামদ্বয় মঙ্গলবার সকালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাবাসপুর গ্রামের চাহার উদ্দিনের বোন সখিনার দুই মেয়ে দুখিনি ও জায়দা প্রায় ৩০ বছর আগে পাশ্ববর্তী আলাইপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের কাছে প্রায় ১০ শতক ধানী জমি বিক্রি করেন। সে সময় দুটি দাগে জমি রেজিস্ট্রি হলেও আমজাদ হোসেন তার বাড়ির সংলগ্ন একটি দাগের জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। বিষয়টি মৌখিক ও স্থানীয় ভাবে স্বীকৃত ছিল বলেও জানান এলাকার প্রবীণরা।
পরবর্তীতে আমজাদ হোসেনের মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে বাবর সরকার হাবাসপুর মৌজার রাস্তা-সংলগ্ন পাঁচ শতক জমি দখলের চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় ভাবে আট দফা শালিস-বৈঠকে আলাম দ্বিগরের পক্ষে রায় হওয়ায় তিনি ব্যর্থ হন। পরে বাবর সরকার আদালতে মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ রয়েছে, মামলা চলমান অবস্থায় বাবর সরকারের নিকটাত্মীয় ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি অমল খন্দকার, তার ভাই নবির খন্দকার, তুতুল খন্দকার, ইউপি সদস্য সিয়ার উদ্দিন এবং শহিদুল মাস্টারের নেতৃত্বে কতিপয় প্রভাবশালী আকষ্মিক ভাবে একতরফা শালিস বসান। ওই শালিসে বাবর সরকারকে জমি দখলের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তার লোকজন ঘটনাস্থলে কয়েকটি খুঁটি পুঁতে চলে যায়।
এদিকে প্রতিপক্ষ আলাম দ্বিগর স্থানীয় সাংবাদিকদের ডেকে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেন এবং জমি দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে তিনি অভিযোগ করেন, শালিসে জড়িত ব্যক্তিরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে একতরফা রায় দিয়েছেন।
আলাম দ্বিগর আরো বলেন , আমি মূল মালিকের সন্তান। আমার দুই ভাগনি জমি বিক্রি করেছেন দুই দাগে। যদি তারা দুই দাগের জমির দাবিদার হন, তাহলে রাস্তার পাশের জমি না নিয়ে পেছনের অংশ নিলে আর কোন ঝামেলা থাকেনা।
কিন্তু তিনি রাস্তার পাশে নিবেন বলে জানিয়ে দেন। এর ফলে আমাদের অন্যান্য ওয়ারিশদের রাস্তার পাশের দুটি বাড়ি ভেঙে ফেলতে হবে। আমরা এই শালিসের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন হাবাসপুর গ্রামের আনিছুর রহমান, হামিদুল ইসলাম, হায়াতুল্লাহ ও জিলাল উদ্দিন-সহ প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ।
হাবাসপুর গ্রামের একজন দু’জন স্কুল শিক্ষক জানান,এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার ছাড়া এ বিরোধের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এলাকাবাসীর মতে, আদালতের রায় ও আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়াতে।
নুরুজ্জামান /শামি