, , ।
স্টাফ রিপোর্টার বাঘা :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের জীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ দুর্যোগ। চুলার সামান্য আগুন মুহূর্তেই গ্রাস করেছে তিনটি বসতঘর, খাদ্যশস্য, গবাদিপশু আর বহুদিনের লালিত স্বপ্ন। আগুন থেকে ঘরের মালামাল বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছেন গৃহবধূ এলিচ বেগম। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
সোমবার (১১ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের মহদীপুর সবজিপাড়া গ্রামে ঘটে হৃদয় বিদারক এই দুর্ঘটনা ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কৃষক মামুন হোসেন জীবিকার তাগিদে নাটোরে কাজ করতে গিয়ে ছিলেন। বাড়িতে ছিলেন শুধু তার স্ত্রী এলিচ বেগম। এ সময় চুলার আগুন থেকে হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িতে।আগুনে পুড়ে যায় তিনটি বসতঘর, আসবাবপত্র, এবং সারা বছরের খাদ্য হিসেবে মজুত রাখা প্রায় ২০ মন ধান ও ১৬ মন গম। এছাড়াও পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় লালন করা চারটি গরু আগুনে দগ্ধ হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় এলিচ বেগম তার বড় ছেলেকে গাড়িতে তুলে দিতে বাঘা-ঈশ্বরদী সড়কের হাব্বুরের মোড়ে গিয়ে ছিলেন। ফেরার পথে লোকজনের মুখে নিজের বাড়িতে আগুন লাগার খবর শুনে ছুটে আসেন। ঘরে ঢুকে মালামাল রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি নিজেও দগ্ধ হন।
স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। পরে বাঘা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
মামুন হোসেনের বড় ছেলে ইমন আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমি ঢাকায় কাজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ছিলাম। হঠাৎ ফোন পেয়ে ফিরে এসে দেখি আমাদের সব শেষ। ঘরে কিছুই অবশিষ্ট নেই।”
বাঘা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে শুকনা খাবার, কম্বল ও নগদ ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেন। পাশাপাশি টিন সহায়তার জন্য আবেদন করার পরামর্শও দেন।
এদিকে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে যান রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
লোকজন জানান, এক রাতের আগুনে শুধু ঘরবাড়িই নয়, পুড়ে গেছে একটি পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্নও। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা—সমাজ ও প্রশাসনের সহায়তায় আবার নতুন করে বাঁচার সুযোগ। সৃষ্টিকর্তা যেন তাদের প্রতি সহায় হন।
সানশাইন /শামি