, , ।
সানশাইন ডেস্ক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজন নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালকের ‘দীর্ঘ যাত্রা ও তন্দ্রা’ দায়ী বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। রোববার সকালে দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজার ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিসের সিলেট স্টেশনের উপ-পরিচলাক মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা।
তিনি ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “কাঁঠাল নিয়ে ট্রাকের চালক সারারাত গাড়ি চালিয়ে সিলেটের দিকে আসছিলেন। শহর থেকে একটি পিকআপ ভ্যান শ্রমিক নিয়ে যাচ্ছিল সুনামগঞ্জের দিকে। তেলিবাজার এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে চারজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চারজন মারা যায়।
“এটা আসলেৃ এই জায়গার মধ্যে ড্রাইভার মনে হয় ঘুমাচ্ছিল, যেহেতু রাত থেকেই সে গাড়িটা চালিয়ে এসেছিল। এই জায়গার মধ্যে এমন সরল একটা রাস্তার মধ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটার কথা না।” যদিও দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, “এত লোড গাড়ি হেলপার চালানোর কথা না। পুলিশ হেলপারকে আটক করেছে। হেলপার পুলিশকে জানিয়েছেন, চালকই ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন। সাধারণত হেলপাররা সড়কে লোড গাড়ি চালান না।”
পুলিশ, সকাল ৬টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, নগরীর আম্বরখানা পয়েন্টে থেকে ২০ জন ঢালাই শ্রমিক একটি পিকআপে করে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল ঢালাই মেশিনও। পিকআপটি তেলিবাজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। শ্রমিকরা জানান, তখন পিকআপে থাকা সবাই ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলে মারা চারজন। সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়। বাকি আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দুই ভাই আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২), ধর্মপাশা উপজেলার নার্গিস আক্তার (৪৫), দিরাইয়ের সেছনি গ্রামের মোছা. মুন্নি বেগম (২৬), দিরাই ইসলামপুরের নুরুজ আলী (৬০) ও নূরনগরের ফরিদুল (৩৫), সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার রায়েরগাঁওয়ের বদরুল আমিন (৪০), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শিবপুর গ্রামের পাণ্ডব বিশ্বাস (২০) এবং পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান।
আহতরা হলেন- হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরীর কালিবাড়ী এলাকার মৃত শুকুর উল্লাহর ছেলে তোরাব উল্লাহ (৬০), আম্বরখানা লোহারপাড়ার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে রামিন (৪০) ও একই এলাকার মল্লিক মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে রাভু আক্তার (২৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামানের মেয়ে হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার জফুর আলীর ছেলে রাজা মিয়া (৪৫)।