, , ।
নুরুজ্জামান, বাঘা: তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় মারাত্মক পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ টিউবওয়েলে পানি না ওঠায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। বিশুদ্ধ পানির অভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া, তীব্র তাপদাহে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, এবং নদী-নালা ও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এক সময় বাঘা উপজেলার পাশ দিয়ে নদী প্রবাহিত হলেও গত কয়েক বছরে সেটি প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দিকে সরে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে পুরো অঞ্চলের পানির স্তরে। ফলে তীব্র গরমে পুড়ছে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণিকূল, আর টিউবওয়েলগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে যাদের বাড়িতে ডিপ টিউবয়েল (জল মটার) আছে, তাদের বাড়িতে মানুষ পানি নিতে ভিড় জমাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, পানি সংগ্রহ এখন অনেকের জন্য দৈনন্দিন সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। ভোর থেকেই দূর-দূরান্তে ছুটতে হচ্ছে মানুষকে। অনেক জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের। অনেকেই বলছেন, আগে টিউবওয়েল থেকে সহজেই পানি পেতাম। এখন অনেকক্ষণ চাপ দিলেও পানি ওঠে না। খুব কষ্টে দিন কাটছে। এ কারণে কেউ কেউ পাঁচ-ছয় ফিট মাটি খুড়ে টিউবয়েলের বডি নিচে নামিয়ে দিচ্ছে।
এদিকে পানি সংকট হওয়ায় তীব্র তাপদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। পানির অভাবে ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না তারা। বাড়ছে পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি। উপজেলার আমোদপুর গ্রামের কৃষক ফজলুল হক বলেন, গরমে কাজ করতে পারছি না। পানি না থাকায় খুব সমস্যা হচ্ছে। খাওয়ার পানিও ঠিকমতো পাচ্ছি না। মাঠে ধানের আবাদ চলছে, এক সপ্তাহের মধ্যে পাকা শুরু হবে। কিন্তু সেখানেও পর্যাপ্ত পানি নেই।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এতে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এলাকার সচেতন মহলরা বলছেন, এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তারা অবিলম্বে বর্তমান সরকারকে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, বাঘা উপজেলায় দুটি পৌরসভা রয়েছে। একটি আড়ানী, অন্যটি বাঘা। এর মধ্যে বাঘা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। এই পৌরসভা থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার কথা কয়েক বছর পুর্বে মাটির নিচে পাইপ পোতা হলেও এখন পর্যন্ত সেটা চালু করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমান বাঘা পৌর প্রশাসক শাম্মী আক্তার জানান, পৌরসভায় পানির লাইনের কাজ চলছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই এটি চালু হবে।