, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: বৈশ্বিক সমস্যার কারণে জ্বালানি তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ফলে বর্তমানে ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করার ব্যাপারে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন মালিকগণ। চাহিদা মতো তেল সরবরাহ করতে না পারায় ভোক্তাসাধারণের কাছে প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। প্রায় সময় অপ্রীতিকর ঘটনাও অনেক ঘটেছে। পাম্প সংশ্লিষ্ট কর্মচারিগণকে মারধর করা, শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করায় তারা হতাশা এবং পাম্পের ডিউটি করা থেকে অব্যাহতি চাচ্ছেন। এমন কি প্রাণনাশের মতো হুমকিও পাচ্ছেন পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা।
এমন অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন বা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন যেন পাম্পগুলো তাদের মত পরিচালনা করেন। মালিকরা শুধু তেলের যা কমিশন তা পেলেই হবে বলে রাজশাহী জেলার ৪৩ পাম্প মালিকরা দাবি করেছেন।
১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাজশাহী জেলা পাম্প মালিকদের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনের সভাপতি মনিমুন হক। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান সুমন। সভায় তারা বলেন, বর্তমানে পাম্প মালিকদের এবং পাম্পের যে ধরণের পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে এতে সকলে ক্লান্ত।
নানানমুখি সমস্যার কথা তুলে ধরে পাম্প মালিকদের একজন জানায়, বাস্তবতাতো এটাই- তেল কম চাহিদা বেশী। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের নামে নামধারী দলের স্থানীয় নেতারা মেশিনের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে চাপ সৃষ্টি করছে। তারা ইচ্ছামত তেল নিচ্ছেন-না দিয়ে হামলা ভাংচুরসহ মবের ভয় দেখাচ্ছেন। আবার নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ বাহিনীর একদিকে আত্মীয়-স্বজন বেড়ে গেছে। তারাও তেল দেয়ার খবরদারি করছেন।
পাম্প মালিকদের কয়েকজন জানান, এক লরিতে তিন চেম্বারে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার তেল আসতো এখন সেখানে পেট্রোল-অকটেন ও ডিজেল মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার লিটার আসছে। এতে সরবরাহ কস্ট বেড়ে যাচ্ছে-ট্রান্সপোর্টসহ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এতে লাভতো দুরের কথা লোকসানে হিসশিম খাচ্ছি। রাজশাহীর কোন পাম্প মালিক তেল মজুতের সাথে জড়িত না। পাম্পের বাইরে কেহ যদি মজুত করে থাকে-তার দায় নিশ্চয় পাম্প মালিকরা নিবেন না। প্রশাসন ও জনগণ আমাদেরকে দোষারোপ করছেন। অথচ আমাদের লোকই হামলা-ভাংচুর শিকার হচ্ছেন। এমনকি মেরে ফেলাও হচ্ছে। আর শাসন গর্জন প্রাণ নাশের হুমকিতো আছেই।
তাই, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে না আশা পর্যন্ত প্রশাসন যেন পাম্পগুলো তাদের মত পরিচালনা করেন। এতে তেলের যা কমিশন তা পেলেই তাদের চলবে। তাহলে মজুতদারের, মুনাফা লাভের ও দুর্নীতিবাজের দুর্নামটা লাঘব হবে। তেল দিতে গিয়ে স্থানীয় নেতাদের খবরদারি ও পুলিশের স্বজনপ্রীতি কমে যাবে। সেই সাথে মোবাইল কোর্টের প্রয়োজন হবে না।
রাজশাহী বিআরটিএ থেকে জানা গেছে-শুধু মোটরসাইকেলেরই রেজিস্ট্রেশন হয়েছে প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার। প্রতিদিন যদি এক লিটার করে তেল (পেট্রল/অকটেন) দিলে লাগছে পৌনে দুই লাখ লিটার। তবে বাস্তবে প্রতিদিন পাম্প মালিকরা রাজশাহীতে তেল পাচ্ছেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার লিটার। তাহলে এক লিটার করে তেল দিলেও লাগছে ৬ থেকে ৭ দিন। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানী কর্মকর্তাগণের কেউ মোবাইল রিসিভ করেননি। রাজশাহী জেলার জন্য চাহিদার বিপরীতে প্রতিদিন কত লিটার জ্বালানী তেল বরাদ্দ তা জানা সম্ভব হয়নি।
এতো গেল শুধু মোটরসাইকেলের হিসাবমতে। এরপরেও আছে কার, বাস, ট্রাক ও জেনারেটরসহ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের মোটরযান। এছাড়াও রয়েছে পুলিশসহ অন্যান্য কর্মকর্তার বদলীজনিত বাড়তি যানবাহন। সবমিলিয়ে একটি মোটরযান ১০দিনেও এক লিটার তেল পাবেন না-এটাই বাস্তবতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানা যায়, জনগণ, প্রশাসন, আইন শৃংখলা বাহিনী ও ওয়েল কোম্পানীর পলিসির কাছে পাম্প মালিকরা জিম্মী হচ্ছে।
ভ্রাম্যমান আদালতের বিষয়ে পাম্প মালিকরা আরো দাবি করেন, একটি বৈধ পাম্পের লাইসেন্স বৈধ হওয়া সত্বের সেই পাম্পে যদি কোন তেল মজুত থাকে সেই তেল কিভাবে অবৈধ বলে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করছেন। অতএব কোন প্রকার ভ্রাম্যমাণ আদালত কোন পাম্পে অভিযান করে- কোন পাম্পে যদি কোন ত্রুটি থাকে সেক্ষেত্রে মৌখিক ভাবে সতর্ক করতে হবে। অন্যথায় আমরা তেল উত্তোলণ থেকে বিরত থাকবো। এদিকে পদ্মা/ মেঘনা/যমুনা কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত পরিমানে তেল সরবরাহ করছে না। বিশেষ করে মেঘনা কোম্পানী। কোন পাম্পে ৩০০০ লিটার তেল কোনভাবেই উত্তোলন করা যাবে না। গাড়ির মাপ অনুযায়ী ৯০০০ অথবা ১৩ হাজার ৫০০ ক্ষমতা সম্পূর্ণ গাড়িতে পরিপূর্ন তেল দিতে হবে।