সর্বশেষ সংবাদ :

বাঘায় সরকারি কর্মকর্তা, ডাক্তার ও শিক্ষক সংকট,ব্যাহত প্রশাসনিক কার্যক্রম

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা :

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় চারটি সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা সংকট রয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৬ জন শিক্ষক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ৭ জন প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। একই সাথে কলেজ পর্যায়ে শুন্য রয়েছে ১০ জন প্রভাষক পদ ।এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং জনসেবা প্রদানে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব পদে দ্রুত লোকবল নিয়োগ দেওয়া হোক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঘা উপজেলায় যুব উন্নয়ন, বরেন্দ্র উন্নয়ন, আইসিটি ও মৎস্য অধিদপ্তরে কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সার্জারি, চর্মরোগ ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। এছাড়া উপজেলার ৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪১ টিতে সহকারী শিক্ষক এবং ৩৫ টিতে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে । একইভাবে ৫৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৯টি মাদ্রাসা মিলে প্রায় ৭ টি প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রধান শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে উপজেলার ২১ টি কলেজের মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক পদ শুন্য রয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীর ,রোগীরা মানসম্মত চিকিৎসা পাচ্ছেনা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে সেবা নিতে আসা লোকজন জানান, একজন কর্মকর্তা একাধিক দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো কোনো অফিসে প্রধান কর্মকর্তা না থাকায় পাশের দপ্তরের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে কাজের চাপ বেড়ে যাচ্ছে এবং সেবার মান কমে যাচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে বেশি সময় লাগছে এবং অনেক ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

শুধু প্রশাসনিক দপ্তরেই নয়, শিক্ষা খাতেও একই চিত্র বিরাজ করছে। উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী বা খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে, যা শিক্ষার গুণগত মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে বাঘা উপজেলায় সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন তেমনভাবে দেখা যাচ্ছে না। তারা দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ এবং নতুন নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জনবল সংকট একটি জাতীয় সমস্যা এবং ধীরে ধীরে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের মতে, বাঘা উপজেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বাঘা উপজেলায় কর্মকর্তা ও শিক্ষক সংকট জনসেবা ও শিক্ষার গুণগত মানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। এমতাবস্থায় দ্রুত শূন্য পদ পূরণ ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে অনেকে মনে করেন।

সার্বিক বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার জানান, উক্ত সমস্যাগুলো স্থানীয় সংসদ সদস্য-সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং অচিরেই এসব সমস্যার সমাধান করা হবেও বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নুরুজ্জামান /শামি


প্রকাশিত: April 13, 2026 | সময়: 12:31 pm | Daily Sunshine

আরও খবর