, , ।
ইমাম হোসেন, ডিজিটাল :
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সন্তান না থাকায় গরিব অসহায় দুই প্রতিবন্ধী অন্ধ বৃদ্ধের সংসার চলে মানুষের কাছে হাত পেতে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদ্বয়। ঠিকমতো এখন বাড়ি থেকে বের হতেও পারেন না তারা। কখনো খেয়ে আবার কখনো না খেয়ে সহায় সম্বলহীন ওই বয়স্ক দুইজনের কাটছে জীবন।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী অন্ধ মুজিবর রহমান (৭০) বিয়ে করেছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী মিনা বেগম (৬০) কে। বর্তমানে বয়স ও অসুস্থতায় নুয়ে পড়েছেন মিনা বেগমও। মুজিবুর রহমান দৃষ্টি প্রতিবন্ধী অন্ধ হলেও, প্রতিবন্ধী স্ত্রী মিনা বেগমের চোখের সাহায্যে চলাফেরা ও ভিক্ষাবৃত্তি করতেন তারা। তাদের সন্তান না থাকায় শেষ বয়সে এসে পড়েছেন দারুন রকম বিপাকে। এখন বাহিরে গিয়ে তেমন আর ভিক্ষাও করতে পারেন না তারা। প্রতিবেশীদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয় তাদের। সরকারি সহায়তা প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও, পান না অন্য কোনো সরকারি সুযোগ সুবিধা। বেশ কয়েক মাস পরপর প্রতিবন্ধী ভাতা আড়াই হাজার টাকার মতো পেলেও তা বাড়ির বিদ্যুৎ বিল আর টুকটাক কিছু কেনাকাটা করতেই শেষ হয়ে যায়। তবুও তাদের মুখে হাসির কমতি ছিল না।
ভূমিহীন ওই অসহায় দুই ব্যক্তি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একজন অসুস্থ হলে তাদের পুরো পরিবার থমকে যায়। অসুস্থ হয়ে ও না খেয়ে পড়ে থাকলে দেখার মত কেউ থাকে না। মারা গেলে দাফন কাফন করবে কে সেটা নিয়ে রয়েছেন তারা চিন্তায়।
অপরদিকে বাস্তবে বয়স বেশি, আর ভোটার আইডি কার্ডের বয়স কম, এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পশ্চিম ভাগ এলাকার ক্বারী আনছার আলীর বাস্তবে বয়স ১শত বছর পার হলেও এখনো পান না বয়স্ক ভাতা বা কোনো ধরনের সরকারি ভাতা বা সহায়তা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন আনছার আলী। কোনো কাজই এখন আর করতে পারেন না। ঠিকমত চলাচলও করতে পারেন না। তাই অভাবের সংসারে অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি। একটা সময়ে এলাকা বা এলাকার বাইরে গিয়ে মসজিদে মোয়াজ্জিম হয়ে আজান দেওয়া ও কোথাও ইমামতি করে জীবন নির্বাহ করেছেন। বর্তমানে বয়সের ভারে নুয়ে পড়ায় এখন আর পারেন না সেই কাজটাও করতে। তাই দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন আর কত বয়স হলে পাওয়া যাবে ভাতা বা সরকারি সহায়তা!
এছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকা বিলমাড়িয়া পুর্বপাড়ায় মৃত, তাহের মোল্লার স্ত্রী বিধবা সবুর জান বেগম তার অবস্থাও একই রকম। স্বামীর মৃত্যুর পর নিজেও অসুস্থ হয়ে পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছেন। মিলছে না তার চিকিৎসার টাকা। তার ছেলে সন্তান থাকলেও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়ায় পুরোপুরি চিকিৎসা ভার বহন করতে পারছেন না তার সন্তানরা। চেয়েছেন সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টিও।
অন্যদিকে পুরো উপজেলায় আরো বহু’ অসহায় নারী-পুরুষ আছেন যাদের বয়স ষাটোর্ধ্ব। শুধু মাত্র জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স কম থাকায় তারাও পান না বয়স্ক, বিধবা সহ অন্যান্য ভাতা। জাতীয় পরিচয় পত্র জটিলতায় বন্ধ আছে বহু মানুষের সরকারি ভাতা পাওয়ার পথ। এদের অনেকেইর সামর্থ্য নেই জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমান বলেন, আমরা সব সময় মানুষকে সহায়তা করে আসছি। এ ধরনের কোনো ঘটনা থাকলে অবশ্যই তাদেরও সহায়তা করা হবে। এছাড়াও অন্যান্য যে সমস্যাগুলো আছে তারা আসলে আমরা সমাধান করার চেষ্টা করব।
সানশাইন /শামি