, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দিনের বেলায় পাম্পে পেট্রোল না পাওয়া গেলেও, রাতে বিভিন্ন ডিপোতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উচ্চমূল্যে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে এই অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি তথ্যে দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা বলা হলেও, বাঘার চিত্র ভিন্ন। পাম্প গুলোতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও গ্রাহকরা জ্বালানি পাচ্ছেন না। অথচ গোপনে নির্ধারিত দামের কয়েকগুণ বেশি দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন ডিপোতে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার সম্প্রতি জ্বালানি বিতরণে সীমা নির্ধারণ করেছেন-মোটর সাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১০ লিটার। তবে বাঘায় এ নির্দেশনা কার্যকর না হয়ে উল্টো কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ ডিপো মালিকদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক, কৃষক ও পরিবহন শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সেচ সংকটে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু ডিপোতে রাতে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দামের প্রায় তিনগুণ। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিপো মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ অঞ্চলের মোটরসাইকেল চালকরা অভিযোগ করে বলেন, বাঘায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকলেও খোলা বাজারে চড়া দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সদরে অবস্থিত বাঘা পেট্রোল পাম্পের মালিক লুৎফর রহমান জানান, আমি সবশেষ ১৯ মার্চ ৩ হাজার লিটার পেট্রোল পেয়েছি। এর আগের সম্পায় কত লিটার পেয়ে ছিলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার সঠিক মনে নেই। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে হিসেব দিয়েছি।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বাঘার মনিগ্রাম, বাঘা পৌরসভা, তেঁতুলিয়া ও আড়ানী পৌরসভা মিলে অন্তত সাতটি জ্বালানি তেলের ডিপো রয়েছে। এর মধ্যে একই পরিবারের তিনটি। তবে এসব ডিপো মালিকদের মধ্যে প্রধান এবং প্রভাবশালী মনিগ্রাম এলাকায় অবস্থিত মনির আলীর ডিপো। লোকজন জানান, গত ২০২০ সালের ২৪ মার্চ সকালে মনিগ্রাম বাজারে অবস্থিত মনির হোসেন ড্রাম খুলে পেট্রোল আলাদা করতে লাগে। এ সময় আকস্মিক ভাবে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রায় ৩০ জন আহত হন। এরমধ্যে পর্যায়ক্রমে পাঁচজন মারা যান।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, অনুমোদন ছাড়া ডিপো স্থাপন ও জ্বালানি বিক্রি অবৈধ। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নিরাপত্তা সনদ বাধ্যতামূলক। তবে এ নিয়ম না মেনেও অনেকে ডিপো খুলে ব্যবসা করছেন।
বাঘা উপজেলা নির্বাহীম কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে তেলের চড়া দাম নেওয়ায় তেঁথুলিয়ায় একজন ডিপো মালিকে জরিমানা করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের মতে, এই সংকট কেবল জ্বালানি সমস্যাই নয়, বরং বাজার ব্যবস্থাপনা ও তদারকির দুর্বলতার প্রতিফলন। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।