সর্বশেষ সংবাদ :

পদ্মার চর ও সাফিনা পার্কে বিনোদন প্রেমীদের ভিড়

সাইফুল ইসলাম, গোদাগাড়ী: ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন উৎসবপ্রিয় মানুষ। গোদাগাড়ীর পদ্মার চর ও সাফিনা পার্কে নেমেছে দর্শনার্থীদের ভিড় শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাসে মুখর পুরো পরিবেশ।
রঙ-বেরঙের নতুন পোশাক পরে তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোরসহ সব শ্রেণির মানুষ আসেন ঘুরতে। শিশু-কিশোরদের উপস্থিততে এক নতুন রুপ। গোদাগাড়ীবাসীর কাছে দিনটি পরিণত হয়েছে মিলনমেলা ও আনন্দ ভাগাভাগির এক উম্মক্ত উৎসব।
সাফিনা পার্কে ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনও বিনোদনপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পার্কের বিভিন্ন ইভেন্ট উপভোগ করতে দর্শনার্থীরা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সরজমিনে দেখা যায়, পার্কে টিকেট কাউণ্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে পার্কের ভিতরে প্রবেশ করছেন।
সাফিনা পার্কের অপারেশন ডিরেক্টর শরিফুল ইসলাম বলেন, ঈদ আনন্দে পার্কে আসা দর্শণার্থীদের নিরাপত্তা ও আনন্দের কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ পার্কের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে। তবে এবার যে এত পরিমাণ দর্শনার্থী আসবে তা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল।
শনিবার ঈদের দিনও বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে পার্কে প্রায় দশ হাজার দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছিল। রবিাবার প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক এবং সোমবার ২৫ হাজার দর্শনার্থী আগমন ঘটছিল। পার্কের প্রবেশ মূল ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পদ্মার চরে বিনোদনপ্রেমীদের উপচেপড়া ভিড়: এদিকে গোদাগাড়ী এলাকায় পদ্মার পানি শুকিয়ে জেগে উঠেছে বিশাল চর। এই নতুন চরই এবার ঈদের ছুটিতে মানুষের বিনোদনের নতুন ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। পদ্মার পাড়জুড়ে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে উৎসবমুখর পরিবেশ। চর পেরিয়ে নদীতে গিয়ে তারা নৌকায় চড়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়ান, নদীর বাতাসে প্রাণ জুড়ান, আর পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করেন ঈদের আনন্দ। বিকেল ও সন্ধ্যার অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে যা নগর জীবনের ক্লান্তি দূর করে প্রশান্তি যোগাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মার এই বিশাল চরে সৃষ্টি হয়েছে এক অনন্য নৈসর্গিক দৃশ্য, যা সহজেই যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীর মন কেড়ে নেয়। অনেকে বলছেন, এটি যেন এক মিনি কক্সবাজার বা কুয়াকাটা। নদীর বালুচর আর বয়ে চলা বাতাসের কারণে এই জায়গাটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পদ্মার এই চর দর্শনার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
গোদাগাড়ী পৌরসভার রেলওয়ে বাজার এলাকার পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা শামসুজ্জামান সজল বলেন, একসময় পদ্মার উত্তাল ঢেউ আর গর্জন ছিল মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু কালের বিবর্তনে নদী তার সেই রূপ হারালেও, নতুনভাবে বিনোদনের স্থান হয়ে উঠেছে এই চর।
শনিবার ২১ মার্চ বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে গোদাগাড়ী মডেল থানার সামনে থেকে থেকে রেলবাজার পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মা তীরজুড়ে মানুষ আনন্দে মেতে উঠেছে। পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের নিয়ে দলবেঁধে আসা মানুষ ঈদের আনন্দে ভাসছেন। কেউ নদীতে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ফটোগ্রাফি ও সেলফি তুলছে আবার কেউ বালুর চরে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
বন্ধুদের সঙ্গে নৌকায় ঘুরতে আসা নিলয় বলেন,পদ্মার এই নতুন চর আমাদের কাছে এক নতুন বিনোদন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। নদীতে নেমে গোসল করলাম, নৌকা ভ্রমণ করলাম-সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি!
ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আহমেদ শাকিল হাসমি বলেন, শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে এমন জায়গার দরকার ছিল। নদীর পাড়ের স্নিগ্ধ পরিবেশ, বাতাস, প্রকৃতির সৌন্দর্য সব মিলিয়ে এটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর। কক্সবাজার বা কুয়াকাটার মতো অনুভূতি হয় এখানে এসে।
পদ্মার বুকে জেগে ওঠা এই চর নতুনভাবে গোদাগাড়ীর পর্যটন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে প্রতিদিনই এখানে ছুটে আসছেন হাজারো মানুষ। আগামীর বর্ষায় চর ডুবে যাবে। নদী ভরে উঠবে পানিতে। তবে আপাতত এটি বিনোদন প্রেমীদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।


প্রকাশিত: March 25, 2026 | সময়: 5:11 am | সুমন শেখ