, , ।
রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের বার্তা নিয়ে মাহে রমজান চলছে, আলহামদুলিল্লাহ। মুসলিম জাতি এ মাসে নিজেদের আত্মশুদ্ধি অর্জনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকেন। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে সামাজিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি রক্ষায় মাহে রমজানের ভূমিকা এই মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সম্প্রীতি সুদৃঢ় করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যাতে কেউ এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে নস্যাত করে দিতে না পারে, এজন্য আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। এক্ষেত্রে মাহে রমজানের শিক্ষা ও মূল্যবোধ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করি।
মাহে রমজান তাকওয়া (আত্মসংযম), সহমর্মিতা, সহানুভূতি ও সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। এই মাসে মুসলমানরা সিয়াম পালনের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের চর্চা করেন। এ সময় ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাই একই কাতারে দাঁড়ান, যা সামাজিক সমতা ও সম্প্রীতির প্রতীক। বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল মুসলিম প্রধান দেশে রমজানের ত্যাগের শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা অত্যন্ত যৌক্তিক ও সমাজের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মাহে রমজান উপলক্ষ্যে দেশবাসীর উদ্দেশে বাণী দিয়েছেন। তিনি সবাইকে মাহে রমজানের মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তার বাণীতে তিনি সামাজিক নিরাপত্তা, বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের কথা উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা হচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এই ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক-রাজনৈতিক স্বপ্নসাধ পূরণ হয় এ মাসে।
১৯৭১ সালের এ মাসেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করা হয়। এ মাসেই জাতি এবার পালন করবে মহান স্বাধীনতার ৫৫ বছর। এ উপলক্ষে মাসের প্রথম দিন থেকেই শুরু হবে সভা সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নানা আয়োজনে মুখরিত থাকবে গোটা দেশ।
২৫ মার্চের কালোরাতে পাকিস্তানিরা বাঙালির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বাঙালি নিধনে গণহত্যা শুরু করে। ঢাকার রাস্তায় বেরিয়ে পাকিস্তানি সৈন্যরা নির্বিচারে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা করে। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের বঞ্চনার শিকার হয় পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা। এ প্রেক্ষাপটেই বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ -এর শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল জাতিসত্তার স্বরূপ অন্বেষার এক একটি মাইলফলক। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ যে স্বাধিকার অর্জনের আন্দোলনের পথে এগোচ্ছিল তা স্পষ্ট হয় এই মার্চেই।