সর্বশেষ সংবাদ :

নগরীতে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর উত্তর শাহমখদুম এলাকায় একটি প্লট জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ শাহমখদুম থানা এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত (মহানগর) ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এ পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, মোঃ খাইরুল হোসেন একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। রাজশাহী মহানগরীর উত্তর নওদাপাড়ায় তিনি ক্রয়সূত্রে ১২৫২২ হোল্ডিং এবং ১৬০৮ নম্বর দাগে ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ ভিটা (আবাসিক) সম্পত্তির মালিক হয়ে নিয়মিত খাজনা প্রদান করে নামজারি সম্পন্ন করেন। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে ইটের সীমানা প্রাচীর দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে ছিলেন। প্রায় ১৫ বছর আগে ওই সম্পত্তি প্রিমিয়াম ব্যাংক, রাজশাহী শাখায় বন্ধক রেখে ঋণও গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে দরখাস্তকারী সম্পত্তি দেখতে গেলে দেখেন ১ নম্বর প্রতিপক্ষ উত্তর নওদাপাড়া এলাকার জারজিস ইসলাম পালান (৫৬), ২ নম্বর শরিফুল ইসলাম (৫০) এবং ৩ নম্বর শামসুল (৫২) সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গাছ কেটে সীমানা প্রাচীর ভেঙে বাঁশ দিয়ে ঘেরার চেষ্টা করছে। বাধা দিলে তারা হাসুয়া, লাঠি, কুড়াল ও কোদালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেয়। চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে প্রতিপক্ষরা যেভাবেই হোক জমি দখল করে নেবে বলে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
নালিশী সম্পত্তিতে থাকা ১০টি মেহগনি গাছ (মূল্য আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা) ও ৫টি আমগাছ (মূল্য আনুমানিক ২০ হাজার টাকা) সহ অন্যান্য গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় মারামারি ও প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ অবস্থায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং প্রতিপক্ষরা যেন জোরপূর্বক দখল নিতে না পারে সে জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
খাইরুল হোসেন বলেন,“আমার ক্রয়কৃত জমির বাউন্ডারির ভিতরে তারা জোর করে দখল নিতে পাঁয়তারা করছে। আমার এই জমির কাগজপত্র ব্যাংকে মর্গেজ করে লোন নেওয়া আছে এবং আমার এই জমিতে বিল্ডিং করার জন্য প্লান পাসও করা আছে। জমির মূল মালিকের নিকট থেকে আমরা ১২ জন জমি প্লট আকারে ক্রয় করেছিলাম। এখন কেউ যদি দখল নিতে আসে তাহলে আমার জমির উপরে কেন আসবে, সে ঐ ১২ জনের প্লটেই দখল করুক। আমার জমি কেন দখল করছে। এখন হঠাৎ দেখি কয়েকজন আমার বাউন্ডারির ভিতরে বাশের বেঁড়া দিয়ে দখল নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি আইনের শরনাপন্ন হয়েছি। জমির কাগজ আমার নামে আছে। আমি শাহমখদুম থানায় এবং কোর্টে মামলা করেছি। আমি চাই আমার জমি থেকে এই হঠাৎ অবৈধ দখলকারীরা চলে যাক এবং আমি আমার জমি বুঝে পেতে চাই। তারা আমার লোকদের বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছে। আমারা ক্রয়কৃত জমিতে তারা অবৈধ দখল নিয়ে আমার লোকদেরই হুমকি দেয়। আমি এর বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ১ নম্বর প্রতিপক্ষ জারজিস ইসলাম পালান বলেন,“আমার নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি আমার কেনা জমিতে দখল নিয়েছি, যার কাগজপত্রও আছে। খাইরুল ভাই কিনেছে ১৬০৭ নম্বর দাগে বোনের কাছে থেকে আর আমি ১৬০৯ নম্বর দাগে কিনেছি ভাইয়ের কাছে থেকে। জমির কাগজ না থাকলে কেউ কি কারো জমিতে যেতে পারে, আমার কাগজ আছে বলেই আমি আমার কেনা জমি দখল নিয়েছি। তাই আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা মিথ্যা।”
জানতে চাইলে শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক বলেন,“থানায় অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত চলছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


প্রকাশিত: February 27, 2026 | সময়: 3:36 am | সুমন শেখ

আরও খবর