, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর বাগমারায় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বিএনপির শান্ত নামের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে বিএনপির কর্মী আব্দুল হামিদ ও শান্ত হোসেন সহ অজ্ঞাতদের আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের বাগ বাজার এলাকায়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে নয়টার দিকে বিএনপির কর্মী শান্ত ও আব্দুল হামিদ বাগ বাজারে যান এবং জায়াতের কর্মী বল্টু মিয়াকে দাঁড়ি পাল্লার ভোট করতে বারন করেন। এ সময় জামায়াতের কর্মী বল্টু মিয়ার সাথে বিএনপির কর্মী শান্ত হোসেনের কথা কাটাকটি হয়। কথা কাটাকটির এক পর্যায়ে বিএনপির কর্মী শান্ত হোসেন ও আব্দুল হামিদ জামায়াত কর্মী বল্টুর উপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে বল্টুর চাচা মোজাম্মেল হক সেখানে হাজির হলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে মোজাম্মেল হক ও বল্টু আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনারস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেন এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির কর্মী শান্ত হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন। রাতেই জামায়াতের কর্মী মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে আব্দুল হামিদ ও শান্তর নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতদের আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
জামায়াত কর্মী মোজাম্মেল হকের দাবী, সন্ধ্যায় তার ভাতিজা বল্টু (২৬) দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় নির্বাচনী কার্যক্রম ও রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিএনপির কয়েকজন কর্মী দলবদ্ধভাবে দোকানে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বল্টুকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
ভাতিজাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা মোজাম্মেল হককেও মারধর করে। তিনি বলেন, হামলাকারীর হত্যার উদ্দেশ্যে বল্টুর বুকে উঠে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে তার মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয় এবং বুকে গুরুতর জখম হয়।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দু’জনকে উদ্ধার করে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের মাঠে পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষকে দমন করতেই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ দিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবী, জামায়াত ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তারা নির্বাচনে পরাজিত হবে ভেবে ভোট বানচালের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তারা অবিলম্বে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার ওসি সাইদুল আলম বলেন, মারামারির ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলার সাথে জড়িত শান্ত নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।