, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ সাত দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতী পালন করেছেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিরা। সোমবার বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১০-২০ গ্রেডের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারিরা। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুইঘন্টা কর্মবিরতি রাখেন শিক্ষকরা।
নওগাঁ: বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারিরা। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। এদিকে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন দপ্তরের দুই ঘণ্টা সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ফলে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি খাস জমির বন্দোবস্ত কাজ করার জন্য রাজস্ব শাখায় আসেন। আজকে সেই কাজের শেষ তারিখ। কিন্তু তিনি সকালে এসে দেখেন সকল সরকারি কর্মচারীরা পে-স্কেলের দাবীতে আন্দোলন করছেন। কেউ অফিসে নেই।’ আদালতে সেবা নিতে আসা রহিদুল সরকার বলেন, ‘দেওয়ানি মামলার আপিল শুনানি ছিলো তার। তাই সকল কাগজপত্রাদি ঠিক করার প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু এসে দেখেন কোন কর্মচারীই তার অফিসে নেই। আজকে শুনানী না হয় তাহলে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে।’ এসময় আন্দোলকারীরা বলেন, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যহীন বেতন কাঠামোর দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু এ সরকার পে-স্কেল দিতে নানা টালবাহানা শুরু করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজারে সরকারি কর্মচারীরা যে বেতন পায় দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকার বিভিন্ন দাবী মেনে নিলেও কর্মচারীদের পে-স্কেল দিচ্ছে না। তাই এবার সরকারি কর্মচারীরা দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং বেতন বৈষম্য দূরীকরণ করেই ঘরে ফিরবে। দ্রুত দাবি না মানলে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণার হুশিয়ারি দেন তারা। আন্দোলকারীরা হাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘নো পে স্কেল নো ইলেকশন। আমরা কোন নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করব না। আমরা কোন ভোট দেবো না। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না।’ আরেক আন্দোলনকারী নাহিদ আল-সালাম বলেন, ‘আমাদেরকে আশ্বাসের নামে মুলা দেখানো হচ্ছে। পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকার কমিশন গঠন করেও বাস্তবায়ন করতে পারছে না। এখন বলা হচ্ছে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। তাহলে কেন এ সরকার কমিশন গঠন করলো। ৫ আগস্টের পর বৈষম্য দূর করার জন্য আপনাদেরকে বসানো হয়েছে। আবারো যদি বৈষম্য করেন তাহলে একইভাবে টেনেহেঁচড়ে নামাবে মানুষ।’ আন্দোলকারীদের সাত দফার মধ্যে আছে, ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তন এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণের দাবি।
বদলগাছী: নওগাঁর বদলগাছীতে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ সরকার কর্তৃক গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশকৃত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ সহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক ঘোষিত ০১ থেকে ০৩ ফেব্রুয়ারি তিনদিন ব্যাপী এই অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে উপজেলার সরকারি কর্মচারীরা।
সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সমাবেশ করে।
এসময় বক্তব্য রাখেন, সোনালি ব্যাংক পিএলসি’র অফিসার (ক্যাশ) আলামিন হোসেন শামীম, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাঈম হোসেন, অফিস সহায়ক মেহেদী হাসান প্রমূখ।
বক্তারা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় গিয়ে যমুনায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এ সময় সকল সরকারি অফিসের কর্মচারীরা সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি বদলগাছী উপজেলা শাখার সকল কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
আত্রাই: নওগাঁর আত্রাইয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, আত্রাই উপজেলা শাখার ব্যানারে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, সরকার কর্তৃক গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে। এছাড়াও ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান ধর্মঘট আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা এমদাদুল হক, সহকারী প্রশাসনিক অফিসার জিয়াউর রহমান, সিএ সঞ্জয় কুমার দত্ত, উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী ইকরামুল, অফিস প্রধান রাঙ্গা বাবুসহ কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মচারীরা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি ও মানববন্ধন পালন করেছেন। রবিবার ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় চত্বরে এ কর্মসূচী পালিত হয়। উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কর্মবিরতি ও মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা বলেন, বিদ্যমান বেতন কাঠামো বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাধারণ ব্যয়ভার বহন ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করতে দ্রু পে-স্কেল বাস্তবায়ন জরুরী হয়ে পড়েছে। বক্তব্য দেন, প্রশাসশনিক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলমগীর কবীর, উপসহকারী প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আ. কা মোদাচ্ছের আলী, সিএ খন্দকার হারিছুর রহমান, উপজেলা পরিসংখ্যান তদন্তকারী মরিয়ম আক্তার, সার্টিফিকেট পেশকার শাহ আলম, হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিটর সোহেল রানা, সমাজ সেবা অফিসের অফিস সহকারী রতন সরকার, নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্টি অপারেটর রায়হান, অফিস সহায়ক আবু বকর সিদ্দিক, সুমি খাতুনসহ সকল কর্মচারী সহ অন্যরা।