, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে রাজশাহীতে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও নওগাঁয় ৯ জনকে, ঠাঁকুরগায়ে ২ জন ও কুড়িগ্রামে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বোয়ালিয়া থানা পুলিশের আলাদা দুটি দল নগরের উপশহর এবং মালোপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন- নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার মাকলাহাট গ্রামের মো. আল মামুন (৪২), একই গ্রামের আনজুয়ারা খাতুন (২৫), নওগাঁর মান্দা উপজেলার দাওই গ্রামের রায়হান কবির (৩০), আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া গ্রামের নয়ন আলী (২৭), নওগাঁ সদরের চক সুখদা গ্রামের জুলফিকার আলী (৪০) ও রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার নোনাভিটা গ্রামের মাহবুব আলম (৪৬)।
শুক্রবার বিকেলে আরএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ছিল। এই পরীক্ষায় চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার জন্য এরা নিজেদের ঊর্দ্ধতন সরকারী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছিলেন। প্রার্থীদের প্রশ্নপত্র সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে তারা তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষরিত ব্যাংকের ফাঁকা চেক, স্বাক্ষরযুক্ত ফাঁকা স্ট্যাম্প এবং প্রার্থীদের প্রবেশপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়েছিলেন।
তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ১২টি স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক, ২১টি স্টাম্প এবং সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত কয়েকজন আসামি আছেন। তাদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আসামিদের মধ্যে রায়হান অসুস্থ। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিদের আদালতে তুলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নওগাঁয় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের দুজনসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শহরের নীলসাগর হোটেল ও পোরশা রেস্ট হাউজে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছে থেকে ১১টি মোবাইল, একটি মানিব্যাগসহ নগদ ৩৭ হাজার ৯৪৮ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এনএসআই ও পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে দুজন প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য, ৬ জন পরীক্ষার্থী ও একজন অভিভাবক। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
আটক ৬ পরীক্ষার্থী হলেন, জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার বামইন গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে মো. আবু সাইদ (৩১) ও চন্ডীপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে সারোয়ার হোসেন (৩১), মহাদেবপুর উপজেলার জিওলি গ্রামের ফারাজুল ইসলামের ছেলে হাবিবুর রহমান (২৬) ও মালাহার গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে ফারুক হোসেন (৩১), সাপাহার উপজেলার কওমি মাদরাসা পাড়ার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে আতাউর রহমান (৩০) ও পোরশা উপজেলার দিঘা গ্রামের রাজ্জাক সরকারের মেয়ে রেহান জান্নাত (৩১)।
প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের দুজন হলেন, পত্নীতলা উপজেলার শিবপুর গ্রামের সালেহ উদ্দীনের ছেলে মামুনুর রশিদ (৪১) ও মহাদেবপুর উপজেলার জিওলি গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দীনের ছেলে আহসান হাবিব (৪০)। এছাড়া আটক অভিভাবক ফারাজুল ইসলাম (৪৮) জেলার মহাদেবপুর উপজেলার জিওলি গ্রামের মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে।
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ডিভাইসসহ দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক পরীক্ষার্থীরা হলেন- পীরগঞ্জ উপজেলার খটশিংগা গ্রামের আইনুল হকের মেয়ে রিপা আক্তার এবং বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী ভোটপাড়া গ্রামের শনিচরণ চন্দ্র রায়ের ছেলে নরদেব চন্দ্র।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে পরীক্ষা চলাকালে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পরীক্ষায় ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ আটককৃতদের হেফাজতে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে উত্তর সংগ্রহ ও সরবরাহের অভিযোগে একটি চক্রের ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিনারুল ইসলাম রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) নাগেশ্বরী উপজেলার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মিনারুল ইসলাম নাগেশ্বরী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি আসন্ন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেও জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন নাগেশ্বরী পৌরসভার আব্দুল হামিদের ছেলে বেলাল হোসেন (৩৮), রায়গঞ্জ ইউনিয়নের চর দামালগ্রাম (পূর্বপাড়া) এলাকার ময়নালের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৮), পৌরসভার বিদ্যুৎপাড়া গ্রামের বাহাদুর আলীর ছেলে মিনারুল ইসলাম (৪০), খামার নকুলা বেরুবাড়ি এলাকার ওয়াহেদুজ্জামানের ছেলে শাহাজামাল (২৭), কাজীপাড়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে বাবু ইসলাম (৩২), বাগডাঙ্গার মৃত জয়নালের মেয়ে জান্নাতুল নাঈম মিতু (২৬), রামখানার নাখারগঞ্জ এলাকার আজিজারের ছেলে আব্দুল লতিফ (৫২), ফুলবাড়ী থানার বোয়ালভিড় ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের মৃত নাজিরের ছেলে শরিফুজ্জামান (৪০), মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাঁশখালি গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে হিমেল মাহমুদ (২৮) এবং মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকার ইদ্রিসি মোড়লের মেয়ে চামিলি আক্তার (২৯) ও ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার ডাঙ্গালিয়া গ্রামের হারুনের ছেলে মাহাবুব খান (৩৫)।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসায় অসাধু উপায়ে উত্তর সংগ্রহের প্রস্তুতিকালে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যেন কোনো ধরনের আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাসহ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।