সর্বশেষ সংবাদ :

চেম্বার নির্বাচন ঘিরে নগরীতে চায়ের আড্ডায় কিছু প্রত্যাশা কিছু প্রতিশ্রুতি

স্টাফ রিপোর্টার: দিন ঘনিয়ে আসছে চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। আগামী ১৫ জানুয়ারী এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে রাজশাহীর ব্যবসায়ীদের মাঝে বিরাজ করছে নীরব উৎসাহ-উদ্দীপনা। ভোটার-প্রার্থী ও প্রার্থী সমর্থক ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নিজেদের প্রতিনিধির বিজয় নিয়ে। চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কাকে কাকে কাজ হবে আবার কাকে দিয়ে কাজ হবে না-ব্যবসায়ীদের চায়ের কাপে কাপে এমন মন্তব্য চলছে জোরেশোরে। নিজেদের প্রত্যাশাপূরণ ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীরা ভিতরে ভিতরে নিজ নিজ প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এবারে দুটি প্যানেলে বিভক্ত হয়ে ব্যবসায়ী প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন। যার একটি ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদ এবং অন্যটি হাসেন আলী সমর্থিত ব্যবসায়ী পরিষদ। নির্বাচন নিয়ে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় হাসেন আলী সমর্থিত ব্যবসায়ী পরিষদের বিভিন্ন স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন-এমন চারজন প্রার্থীর সাথে। এরা হলেন সিনিয়র সহসভাপতি পদে শফিউল আলম, সহসভাপতি পদে জিয়া উদ্দিন আহমেদ, পরিচালকপদে সামশুজ্জামান মিঠু ও মিজানুর রহমান খান।
নির্বাচিত হলে আপনারা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কি পদক্ষেপ নিবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ব্যবসায়ীরা আমাদের মাধ্যমে নীতিনির্ধারক ও সরকারের সাথে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে ব্যবসা-বান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধি, ব্যবসার প্রসারে অ্যাডভোকেসি এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করা যায়। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সদস্যদের শিক্ষা ও পরামর্শ সেবার মাধ্যমে সহায়তার সুযোগ পান। তারা তাদের ইশতেহার মোতাবেক ব্যবসায়ীদের স্বার্থবিরোধী কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে না।
তারা বলেন, আমরা এতদিন বুঝে না বুঝে নিজেদের ক্ষতি করেছি। ছোট-বড় ভেদাভেদ না করে প্রত্যেক ব্যবসায়ীর সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে হবে। নগরীতে খেলার মাঠের সংখ্যা বাড়ানোসহ উন্মুক্ত রাখতে হবে। সুস্থ মন ও শরীর ভাল রাখতে এবং আমাদের ভাল থাকতেই খেলাধুলার পরিবেশ তৈরী জরুরী। সামাজিকভাবে আমাদের প্রত্যেককে মর্যাদাশীল হতে হবে। বড়দের শ্রদ্ধা এবং ছোটদের স্নেহ ও ভালবাসার বিষয়টিতে জোর দিতে হবে। প্রয়োজনের তাগিদে যুগোপোযোগি কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।
চিকিৎসা খাতে নজর দিতে হবে। রাজশাহীতে বর্তমানে হার্ড ফাউন্ডেশনে রিং পরানো হচ্ছে। আমরা নির্বাচিত হলে রাজশাহী ওপেন হার্ড সার্জারির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। রাজশাহীতে এখন পযর্ন্ত ফাইভস্টার হোটেল নেই। এই অজুহাতেই রাজশাহী খেলায় পিছিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও তারা বলেন, আমাদের ইশতেহারের মধ্যে রয়েছে-ব্যবসায়িক সেবা সহজীকরণ করা হবে। চেম্বার ভবনে ব্যবসায়ীদের জন্য একটি আধুনিক “ওয়ান স্টপ সার্ভিস ডেস্ক” চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে যেখানে টি-ন, ভ্যাট, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংকিং ও সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয়ে সমন্বিত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও বৃদ্ধি করা হবে। দেশের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নারী। তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের শিল্প ও বাণিজ্যে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে।
যোগাযোগ ও লজিস্টিক অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। রাজশাহী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ, কার্গো সার্ভিস চালুর সম্ভাবনা, কৃষিপণ্য রপ্তানির সুবিধা সম্প্রসারণ, রাজশাহী-ঢাকা সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়ন এবং গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ স্থলবন্দরকে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়মূলক ভূমিকা পালন করা হবে।
ব্যবসায়ী-বান্ধব চেম্বার প্রতিষ্ঠা করা হবে। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ব্যবসায়ী-বান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে সদস্যদের আস্থা ও অংশগ্রহণ আরও সুদৃঢ় করা হবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (ঝগঊ) সহায়তা করা হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ এবং ঝগঊ ঋণপ্রাপ্তি প্রক্রিয়া সহজীকরণে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন করা হবে। আইটি, নার্সিং, কারিগরি শিক্ষা, পর্যটন ও হোটেল ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সহায়ক ভূমিকা রাখা হবে।
কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করা হবে। রাজশাহীতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিল্প কারখানা স্থাপন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
মৎস্য শিল্প উন্নয়ন করা হবে। রাজশাহী অঞ্চলে মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মজুদ ও বাজার ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি “ফিশ প্রসেসিং জোন” গঠনের উদ্যোগে সহায়তা করা হবে। তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা উৎসাহিত করা হবে। তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে নিয়মিত শিল্প ও বাণিজ্য মেলার আয়োজন এবং বিসিকের মাধ্যমে মেলার জন্য স্থায়ী স্থান নির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে। কৃষিপণ্য ভ্যালু অ্যাডিশন করা হবে। আম, টমেটো ও আলুর মতো কৃষিপণ্যের অতিরিক্ত উৎপাদনকে ড্রাই ফুডসহ ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য হিসেবে বাজারজাত করতে উদ্যোক্তাদের উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।
কর্পোরেট সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা থাকবে। সামাজিক দ্বায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ব্যবসায়ীদের কল্যাণ, বৃক্ষরোপণ, শিক্ষাবৃত্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সচেতনতা, রক্তদান, ত্রাণ বিতরণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য রাজশাহী একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্র। এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে একটি আধুনিক মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে এবং চামড়া শিল্প বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। ঢাকাকেন্দ্রিক চামড়া প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রাজশাহীতেই একটি পূর্ণাঙ্গ চামড়া প্রক্রিয়াকরণ জোন গড়ে তোলার লক্ষ্যে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তায় ভূমিকা রাখা হবে।


প্রকাশিত: January 6, 2026 | সময়: 1:02 am | সুমন শেখ