বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে ও স্থানীয় হস্তশিল্পের প্রসারে জমে উঠেছে মাসব্যাপী বস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলা-২০২৫। ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই মেলা আগামী ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত মেলা উন্মক্ত থাকছে। যেখানে ৪৫টি স্টলে তাঁত পণ্য, বাঁশ-বেত, খাদ্যদ্রব্য ও হস্তশিল্প প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি শন-খড়ের তৈরী পন্য সামগ্রীও মেলায় পাওয়া যাচ্ছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে মোট ৪৫টি স্টল বসানো হয়েছে। মেলায় বেত ও বাঁশের তৈরি সামগ্রী, সিরাজগঞ্জের তাঁত বস্ত্র, গার্মেন্টস পণ্য, ক্রোকারিজ, বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী, গিফট আইটেম ও ভ্যারাইটি পণ্যসহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের নানা পণ্য স্থান পেয়েছে। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের পাশাপাশি আধুনিক নকশার পণ্যও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
এরআগে গত ২৫ ডিসেম্বর নগরীর কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার উত্তর পাশে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করা হয়। উইমেন এন্টারপ্রিনিয়ার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব)-এর ২২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ওয়েব রাজশাহীর উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়েব রাজশাহী শাখার সভাপতি আঞ্জুমান আরা পারভীন লিপি। সেদিন রাজশাহীর বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও ওয়েব রাজশাহী শাখার সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা আক্তার, প্রচার সম্পাদক মৌসুমী খাতুন, প্রচার সম্পাদক শামীমা সুলতানা মায়া, সাংগঠনিক সম্পাদক সততা খাতুন, সদস্য বিপাশা দাসসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, নারী উদ্যোক্তা ও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাঁদের জন্য পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির পাশাপাশি নতুন ক্রেতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। অনেক উদ্যোক্তা অনলাইনভিত্তিক ব্যবসার পাশাপাশি সরাসরি ক্রেতার মতামত জানার সুযোগ পাচ্ছেন, যা পণ্যের মান ও নকশা উন্নয়নে সহায়ক হচ্ছে। তবে ওয়েব রাজশাহী শাখার সভাপতি আঞ্জুমান আরা পারভীন লিপি বলেন, ওয়েবের ২২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পেভমেন্টে মাত্র ১০টি স্টল নিয়ে এই মেলার যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ তা বৃহৎ পরিসরে রূপ নিয়েছে। এই মেলা নারী উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস ও স্বাবলম্বিতার প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, নারী উদ্যোক্তারা তাঁত ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে শুধু নিজেদের নয়, পুরো পরিবার ও সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। এ ধরনের মেলা স্থানীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজশাহীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দর্শনার্থীরাও মেলাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এক জায়গায় দেশীয় হস্তশিল্প ও তাঁত পণ্যের সমাহার থাকায় কেনাকাটা সহজ হচ্ছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সঙ্গে আধুনিক নকশার সমন্বয় নতুন প্রজন্মকেও আকৃষ্ট করছে। মাসব্যাপী এই তাঁত বস্ত্র ও কুটির শিল্প মেলা রাজশাহী অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এমন প্রত্যাশা আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের।
নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার দর্শনার্থী শিশু আরাফ রহমান বলে, আমি ফেসবুকে দেখতে পেয়ে বাবাকে এ মেলায় নিয়ে এসেছি। বেলুন নিব, খাবার নিব, খেলনা নিব আরো অনেক কিছু।