, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে লোকবল সংকটে জমির মালিকরা জমির খাজনা, খারিজ, নামজারি সহ জমির কাগজপত্রাদি সারতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন। ১৬ টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা মিলে উপজেলায় ১৮টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস থাকার কথা থাকলেও মাত্র ৭টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে।
একদিকে ভূমি অফিস কম অন্য দিকে লোকবল সংকটে এলাকার ভূমির মালিকরা বেকায়দায় পড়েছেন। ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একজন সহকারী নায়েব (তহশিলদার) ও ৩ জন উপসহকারী নায়েব (তহশিলদার) থাকার কথা থাকলেও উপজেলায় কোন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ৩ জন উপসহকারী তহশিলদার নেই। এমনকি অফিস গুলোতে ৩ জন অফিস সহায়ক থাকার কথা থাকলে মিলছে মাত্র ২ জন।
অফিস গুলোতে কম্পিউটারের কাজ করার কোন লোক নেই। বাধ্য হয়ে অফিস সহায়ক দ্বারা কাজ চালিয়ে নেয়া হয়। স্থানীয়রা অবিলম্বে উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও উপজেলা ভুমি অফিসে লোকবল নিয়োগের দাবী জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে লোকবলেয় ব্যাপক সংকট রয়েছে। একই ভাবে অফিসে খাজনা দিতে গিয়ে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সমস্যা বরাবরই লেগে থাকছে। জমির খাজনা দিতে অফিস গুলো জমির মালিকদের নোটিশ জারি করে খাজনা পরিশোধের তাগিদ দিচ্ছে। এতে করে জমির মালিকরা খাজনা দিতে গিয়ে সময় মত কাজ করতে না পেরে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। লোকবাল সংকট ও খাজনা দিতে সার্ভারের সমস্যায় দাখিলা, খারিজ, নামজারিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ছে জমির মালিকরা।
উপজেলার ভূমি অফিসের কাজে স্থবিরতার কারণে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাতে বসেছে বলে এলাকার সচেতন মানুষ মত প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগীরা দাবি করে জানান, জমির খাজনা, নামজারি ও খারিজ কাজে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে কাজ হয়ে থাকে। এসব অফিসে একজন সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) তিন জন উপসহকারী কর্মকর্তা ও তিনজন অফিস সহায়কের পদ রয়েছে। তবে বাগমারায় কোন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পুরা লোকবল নেই। প্রতিটি অফিসে মাত্র একজন কর্মকর্তাসহ জোর দুইজন অফিস সহায়ক রয়েছে।
এছাড়া উপজেলার তাহের একডালা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কোন উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) নেই। ১ জন তহশিলদার ও ২ জন অফিস সহায়ক দিয়ে কাজ চলছে কোন রকমে। এখানে গণিপুর ও বাসুপাড়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ২০-২৫টি গ্রামের কাজ হয় ওই অফিসে। লোকবল সংকটে ব্যাপক সমস্যায় পড়েন ভুক্তভোগী জমির মালিকগণ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস গুলোতে বেশ কিছু পদ অনেক দিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলা অফিসের জন্য লোকবল চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। নতুন ভুমি অফিসের জন্য স্থান নির্ধারন করা হয়েছে।
লোকবল সংকট এটা সারা দেশের ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। নতুন করে কোন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সমস্যা দুর করা কঠিন বিষয়। তবে প্রয়োজনীয় নতুন ভূমি অফিস হলে ভূমি অফিসে কাজের তেমন কোন ঘাটতি হবে না বলে জানান তিনি।