সর্বশেষ সংবাদ :

শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে নতুন বই

স্টাফ রির্পোটার: নতুন বছরের প্রথম দিনে হাতে নতুন পাঠ্যবই- এই আনন্দই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে। নতুন বইয়ের গন্ধ, ঝকঝকে মলাট আর নতুন পাঠের হাতছানি শিক্ষার্থীদের মনে তৈরি করে উদ্দীপনা। তাই বছরের প্রথম দিনে সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও শুরু হয়েছে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ। সেই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে নতুই বই তুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদৈর হাতে।
বৃহস্পতিবার বছরের প্রথম দিনে সারাদেশের মতো রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছী উচ্চ বিদ্যালয়েও ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। নতুন বই হাতে পেয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নেহা খাতুন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলে, “নতুন বছরের প্রথম দিনেই বই পেয়ে খুব ভালো লাগছে। নতুন বই মানেই নতুন প্রস্তুতি। বইগুলো হাতে পেয়ে এখন থেকেই পড়াশোনা শুরু করতে পারব।” নেহা বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়বেন।
মৌগাছী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের সময়ে বই পেতে বছরের অর্ধেকটা চলে যেত। তারপরেও বেশিরভাগ অভিভাবকের আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকায় পুরাতন বই নিয়ে লেখা-পড়া করতে হতো। শুধু বই না পেয়েই অনেক শিক্ষার্থী ঝরে যেত। এখন সরকারিভাবে বিনামূল্যে বই দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আবার শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বই না পেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। পাঠ্যবই হাতে থাকলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসের পাঠ অনুসরণ করতে পারে এবং বাড়িতে পড়াশোনার পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়। ফলে সময়মতো পাঠ্যবই বিতরণ শিক্ষার মানোন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই হাতে পাওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং নিয়মিত পাঠদানে গতি আসে। তিনি আরও বলেন, আমার বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির বই পাওয়া গেছে। তবে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো পাওয়া যায়নি।

বই বিতরণ অআনুষ্ঠানিক এই অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল ইসলাম, ফজলুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, ইব্রাহিম খন্দকার, আয়েশা বেগম, ওবাইদুর রহমান, জিল্লুর রহমান, মামুনুর রশিদ, আলমগীর হোসেন, আসমা খাতুন, শারমিন সুলতানা, ইসমত আরা খান, অরুনা খাতুন, মুসফিকা খাতুন প্রমুখ।
বই হাতে পেয়ে পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ান হাসান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলে,“নতুন বছরের প্রথম দিনেই বই পেয়ে খুব ভালো লাগছে। নতুন বই মানেই নতুন প্রস্তুতি। বইগুলো হাতে পেয়ে এখন থেকেই পড়াশোনা শুরু করতে পারব।” একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা নিশাত নতুন বই হাতে পেয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলে,“নতুন বইয়ের গন্ধ আর নতুন পাতা উল্টানোর আনন্দ আলাদা। উৎসব না হলেও বই পেয়ে খুব খুশি হয়েছি।” নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বলেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বই না পেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। পাঠ্যবই হাতে থাকলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসের পাঠ অনুসরণ করতে পারে এবং বাড়িতে পড়াশোনার পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়। ফলে সময়মতো পাঠ্যবই বিতরণ শিক্ষার মানোন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তিনি আরও বলেন, আমার বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির বই পাওয়া গেছে। তবে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জানুয়ারির মধ্যেই সব বই পাওয়া যাবে এবং শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এবার কোনো উৎসব আয়োজন না থাকলেও শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে গিয়ে বই সংগ্রহ করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। সে কারণে বই বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রি-প্রাথমিকে জেলায় মোট চাহিদা ৪১ হাজার ৬২৬টি এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত জেলায় চাহিদা মোট ১১ লাখ ১৯ হাজার ২০৪টি বই। রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাহিদার শতভাগ পাঠ্যবই ইতোমধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছেছে। এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রি-প্রাথমিকের জেলায় মোট চাহিদার ৪১ হাজার ৬২৬টি বই এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত চাহিদার মোট ১১ লাখ ১৯ হাজার ২০৪টি বই বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হবে।
পাঁচবিবি: উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, সতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়ের শ্রেণী শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন।
নতুন বছরে উপজেলার ৯৬’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৫’টি কেজি স্কুল অপরদিকে ৪৮’টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৩০’টি দাখিল ও ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং ২২’টি সতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা মোট ১০০’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৯,৮৮৪’জন শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেন শিক্ষকরা।


প্রকাশিত: January 2, 2026 | সময়: 2:44 am | সুমন শেখ

আরও খবর