বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ আঠারো বছর পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জেষ্ঠ্যপুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মাতৃভূমিতে ফিরেছেন। তারুণ্যের অহংকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরাকে স্বাগত জানাতে কয়েকদিন থেকেই নেতা-কর্মীরা ঢাকা যেতে থাকেন। বৃহস্পতিবার দুপুর শেষে সেই মাহেন্দ্র ক্ষণে মাতৃভূমিতে পৌছান তারেক রহমান। এরপর রাজধানীর পূর্বাচলে ৩০০ ফিটে গণসংবর্ধনাস্থলের মঞ্চে পৌঁছেন তিনি। তারআগেই সেখানে নেতা-কর্মীর ঢল নেমে আসে।
দীর্ঘ দেড়যুগ পর দেশে ফেরা নেতাকে একনজর দেখতে এসেছেন তারা। নেতা-কর্মীদের অনেকের পরনে দলের পতাকার সঙ্গে রং মিলিয়ে জার্সি। মাথায় ক্যাপ, কপালে ব্যান্ড। অনেকের হাতে দলের পতাকা, প্ল্যাকার্ড। কেউ কেউ দলের লোগো-সংবলিত ব্যাজ পরে এসেছেন।
এদিক থেকে পিছিয়ে ছিলেন না জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলনও বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী নিয়ে প্রিয় নেতাকে সংবর্ধনা জানাতে ঢাকায় যান। রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের ধানের শীষের কান্ডারী দলের বারবার পরীক্ষিত নেতৃত্ব আপামর জনসাধারণের কাছের মানুষ এ্যাড. শফিকুল হক মিলন। তিনি প্রায় হাজারো স্থানীয় নেতা-কর্মী নিয়ে এদিন তারেক রহমানকে শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত করেছেন।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য রায়হানুল আলম রায়হান, পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নাফ মুন্নাফ, নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, বর্তমান সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সাধারণ সম্পাদক এডাভোকেট আব্দুর রাকিব পিটার, যুবদল রাহশাহী মহানগরের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বকুল, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী।
আরো সাথে ছিলেন পবা- মোহনপুর উপজেলার উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়িন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এদের মধ্যে ছিলেন নওহাটা পৌরসভা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান ও মিজানুর রহমান, সুলতান হোসেন, বিএনপি নেতা কাজেম আলী, মনির হোসেন, ইফতেখারুল ডনি, মিলন, ড. মোজাফ্ফর হোসেন মুকুল, তৈমুর, যোবায়ের প্রমুখ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিলন বলেন, দীর্ঘ আঠারো বছর বিএনপি প্রাণের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসা এবং দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেয়ায় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও দেশবাসী প্রাণ ফিরে পেয়েছে। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য দুই থেকে তিনদিন পূর্বে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ ঢাকায় আসে। প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে তারা প্রিয় নেতাকে সরাসরি দেখার জন্য ৩০০ফিট রাস্তায় সারারাত বসেছিলেন। এতে কারো চোখে ক্লান্তি অনুভব হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন সামবেশে তারেক জিয়া বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমাদেরকে ধৈর্যশীল হতে হবে, আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের যে সদস্যরা আছেন, তোমরাই আগামী দিন দেশকে নেতৃত্ব দেবে, দেশকে গড়ে তুলবে। এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের আজ গ্রহণ করতে হবে, যাতে করে এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি, শক্ত ভিত্তির উপরে, গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করে এবং অর্থনৈতিক ভিত্তির উপরে যাতে এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারি।
তারেক রহমান আরো বলেন, আমার সঙ্গে আজ মঞ্চে এখানে বহু জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে আছেন। আসুন আজকে আমরা দু-হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি। আল্লাহর রহমত আমরা চাই। যেসব জাতীয় নেতৃবৃন্দ এই মঞ্চে আছেন এবং মঞ্চের বাইরে যেসব জাতীয় আরও নেতৃবৃন্দ আছেন-আমরা সকলে মিলে এই দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে, যেকোনো মূল্যে এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোনো উসকানির মুখে আমাদেরকে ধীর-শান্ত থাকতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও তিনি ৩১ দফার অনেক দফা নিয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।