, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারায় এক মাদ্রাসা প্রধানের বিরুদ্ধে গোপনে সরকারি বই বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাঙড়ি ব্যবসায়ীর কাছে গোপনে বই বিক্রির সময় স্থানীয় লোকজন ধরে ফেলেছে। ওই মাদ্রাসা প্রধানের নাম ফরিদুল ইসলাম। তিনি উপজেলার কুমারপুর আরজানিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। এই ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। তবে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানে বই রাখার জায়গা না থাকায় ভাঙড়ি ব্যবসায়ীর কাছে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রির জন্য এনেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, বুধবার দুপুরের পরে অধ্যক্ষ ফরিদুল ইসলাম কয়েক বস্তা পুরাতন বই বিক্রির জন্য মাদ্রাসা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে দ্বীপপুরে নিয়ে আসেন। বস্তায় থাকা বইসহ অন্যান্য খাতাপত্র পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এসময় স্থানীয় কিছু লোকজন তা দেখে ফেলেন। তাঁরা বই বিক্রিতে বাধা দেন। সরকারি বই কেন বিক্রি করছেন তা জানতে চান। তবে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় লোকজনের পক্ষে ফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি উপজেলা মাধ্যমিক দপ্তরের একাডেমিক সুপার ভাইজার ঘটনাস্থলে যান। তিনি পুরানো বই বিক্রির চেষ্টার বিষয় নিশ্চিত হয়ে তা ফেরত নিয়ে যেতে বলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ওই মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি নুরতাজ হোসেন বলেন, সরকারি বই বিক্রির বিষয়ে তাঁদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। গোপনে অধ্যক্ষ সেগুলো পাঁচ কিলোমিটার দূরে এনে বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বইগুলো রাখার জায়গা না থাকায় পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রির জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন, তবে বাধায় পারেননি। অনুমতি ছাড়া বই বিক্রির চেষ্টা ঠিক হয়নি বলে তিনি দাবী করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর একজন কর্মকর্তাকে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ড. মুহাম্মদ আবদুল মুমীত বলেন, সরেজমিনে গিয়ে বস্তায় ভরা পুরানো বই বিক্রির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছি। বইগুলো গত ২০২১ থেকে ২৪ সালের। অনেক বই ছেঁড়া, তবে অধ্যক্ষ মহোদয় প্রশাসন বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি ছাড়া বিক্রি করতে পারেন না। এজন্য তাঁকে কারণ দর্শনোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাবের পর প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে।