, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: এবার ভারতে বসবাসকারী মেয়েকে মায়ের মরদেহ দেখার সুযোগ করে দিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। এর আগে সোমবার ৮ ডিসেম্বর রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা তারা বানু (৭৫)। পরদিন মঙ্গলবার সকালে মায়ের মরদেহ ভারতে বিবাহসুত্রে অবস্থানকারী মেয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়।
মৃত তারাবানু (৭৫) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর গ্রামের মৃত শামসুল হকের স্ত্রী।
৫৯ বিজিবি ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক গোলাম কিবরিয়া ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাযের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ভারতের মালদা জেলার কালিয়া থানার দুশতদিঘী এলাকার বাসিন্দা মৃতার মেয়ে মালেকা বেগম সহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনরা লাশ দেখার জন্য বিএসএফের মাধ্যমে বিজিবির কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানান। মানবিক বিবেচনায় ভারতীয় স্বজনদের লাশ দেখানোর জন্য মঙ্গলবার সকালে ১৫ মিনিটের জন্য কিরণগঞ্জ বিওপি–এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৭৯/৩এস এর নিকট শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে নিযে যাওয়া হয়। এ সময় উভয় দেশের মৃত মহিলার স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মালেকা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, দুইটি আলাদা দেশের কারনে এবং আইনগত জটিলতার কারণে মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে খুব কষ্টে ছিলেন। শেষবার মাকে একবার এক নজর দেখার জন্য আকুতি ছিল। পরে বিএসএফের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং বিজিবি সাড়া দেয়ায় তিনি তার মায়ের শেষ মুখটা দেখতে পেলেন। শেষবারের মতো মরদেহ দেখে তিনি এ উদ্যোগের জন্য বিজিবি এবং বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে ৫৯ বিজিবি মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিজিবি যে কোনো মানবিক কাজে সর্বদা সহানুভূতিশীল।’ এর আগেও বাংলাদেশীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে স্বজনদের মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়।
এর আগে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে এবং চলতি মাসের ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারতে মারা যাওয়া ২ জনের মরদেহ বিজিবি-বিএসএফের সহায়তায় দেখানোর সুযোগ করে দেয়া হয় স্বজনদের। তবে এবারই প্রথম ভারতীয় স্বজনরা মরদেহ দেখার আবেদন করে বাংলাদেশের কাছে।