, , ।
সবুজ ইসলাম: বিনা টিকিটের যাত্রীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে বিভাগ। রেলের সেবার মান বৃদ্ধির সাথে সাথে শতভাগ টিকিটে যাত্রী পরিবহণে নেওয়া হয়েছে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ সেবা বজায় রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বিনা টিকিটে ভ্রমণ কমে আসছে এবং রাজস্ব আয় ক্রমেই বাড়ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের দেওয়া তথ্যনুযায়ী, ২০২৪-২৫ এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই,আগস্ট,সেপ্টেম্বর) মোট ১৭ মাসে মোট ৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার জরিমানা আদায় করে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি করেছে তারা। যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিন মাসে তারা ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার জরিমানা আদায় করেছে।
রেলওয়ে বিভাগ জানায়, যাত্রীসেবা উন্নয়ন এবং রাজস্ব বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে ট্রেনের কোচসমূহে টিকিট চেকিং টিম দায়িত্ব পালন করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিনা টিকিট, জাল টিকিট ও অনিয়মে জড়িত যাত্রীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন,“রেলে পূর্বের তুলনায় যেরকম যাত্রী বেড়েছে আবার অনেকে টিকেট বিহীন যাত্রা করছে। এর ফলে সরকারি এই যোগাযোগ ব্যবস্থা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই আমরা পূর্বের তুলনায় রেলে টিকেট বিহীন যাত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জোরদার করেছি। আমাদের এই অভিযান চলবেই। আশা করছি যাত্রীরা সব নিয়ম মেনে টিকেট কেটে যাত্রা করবেন এবং রেলের সব নিয়মকানুন মেনে চলবে।”
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, অভিযান অব্যাহত থাকবে। ট্রেন সেবা সবার জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে যাত্রীদের নিয়ম মেনে ভ্রমণের আহ্বান জানানো হয়েছে। রেলের সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় এর যাত্রী সংখ্যাও বেড়েছে। নতুন ট্রেন সার্ভিস, সময়ানুবর্তিতা, নিরাপদ ভ্রমণ সুবিধা এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করার ফলে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ট্রেনে যাতায়াত করছেন। যাত্রী বৃদ্ধির সাথে সাথে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের যাত্রী সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৫০ লাখ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ২৮ লাখ। পূর্বের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা গড়ে বেড়েছে প্রতিমাসে ৩ লাখ ৩৯ হাজার।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনে টিকিট বিক্রির সুবিধা, কোচ নবায়ন, স্টেশন উন্নয়নের কাজ এবং নিরাপত্তা জোরদার করার কারণে যাত্রী সংখ্যা এখন অনেক বেশি। ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাপ সামাল দিতে কিছু রুটে নতুন ট্রেন চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, “রেলের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরেছে। যাত্রী বাড়ছে, আর সেই সাথে সরকারের রাজস্বও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা যাত্রীদের ভ্রমণ সুবিধার কথা বিবেচনায় নির্দিষ্ট কিছুৃ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, এগুলো কাজ শেষ হলে রেল ভ্রমণ আরো আরামদায়ক ও নিরাপদ হবে।”
রেলওয়ের নিয়মিত যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সড়কের যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়িয়ে রেলপথ এখন তাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় ট্রেন সাশ্রয়ী ও দ্রুত ভ্রমণের সুবিধা দিচ্ছে। সেজন্য তারা অন্য বাহনের তুলনায় রেলওয়ের যাত্রায় প্রাধান্য দিচ্ছেন বেশি।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম শেষ হলে যাত্রী ও রাজস্ব উভয়ই আরও বৃদ্ধি পাবে।