সর্বশেষ সংবাদ :

বড়াইগ্রামে ছয় মাস ধরে ভাতা পান না ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষক

স্টাফ রিপোর্টার, বড়াইগ্রাম: ‘এমনিতেই নামমাত্র সম্মানী ভাতা’ দেয়, সেটাও সময় মতো পাই না। গত ৬ মাস যাবৎ ভাতা বকেয়া রয়েছে। টাকা ছাড়া তো আর জীবন চলে না। তাই স্ত্রী-সন্তানের মুখে ডাল-ভাত তুলে দিতে সামান্য কিছু আলু-পেঁয়াজ-মরিচ কিনে ফুটপাতে বসে বিক্রি করছি। এতে যৎসামান্য যা আয় হয়, তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।’ কথাগুলো বলছিলেন নাটোরের বড়াইগ্রামের লক্ষ্মীকোল গ্রামের শামসুজ্জামান।
তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় কর্মরত একজন শিক্ষক। শুধু তিনিই নন, তারা মত এ প্রকল্পের আওতায় কর্মরত উপজেলার দেড় শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা সম্মানী ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় মোট ১৬২ টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ১৬২ জন নারী ও পুরুষ শিক্ষক পাঠদান করেন। প্রতি মাসে তারা মাত্র ৬ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পান। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সর্বশেষ ভাতা পেয়েছেন তারা।
এরপর থেকে ছয় মাসের ভাতা বকেয়া পড়েছে তাদের। এর মধ্যে একাধিকবার ভাতা দেয়া হবে বলে জানালেও পরে আর দেয়া হয়নি। এতে অর্থাভাবে স্বজনদের নিয়ে কষ্টে আছেন তারা। পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ মেটাতে অন্য পেশাও বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন কেউ কেউ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, ছয় মাস ধরে ভাতা পাই না। কিন্তু প্রতিদিনের সংসার খরচ তো আর থেমে থাকে না। স্ত্রী-সন্তানদের মুখে তিন বেলা খাবার তুলে দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি, কিন্তু মাস শেষে টাকার কোন খবর নেই। এভাবে কতদিন চলা যায়?
বড়াইগ্রাম এলাকার শিক্ষক আজাদুল ইকবাল বাতেন বলেন, মাস শেষে যে সামান্য সম্মানী ভাতা পাই, সেটাও ৬ মাস ধরে বন্ধ। দোকানে বাঁকি থাকলে এক-দুই মাস মেনে নেয়, মাসের পর মাস ধরে তো আর কেউ বাঁকি দেয় না। অর্থাভাবে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া সহ সংসার চালাতে কি যে সমস্যা এটাতো উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা বোঝেন না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপজেলা সুপার ভাইজার মহিদুল ইসলাম জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, প্রত্যয়নপত্রও দিয়েছি। ব্যাংকের একাউন্ট ট্রান্সফার করা নিয়ে জটিলতার কারণে সারা দেশের ন্যায় আমাদের উপজেলাতেও ৬ মাস ধরে শিক্ষকরা ভাতা পাচ্ছেন না। তবে এ মাসের মধ্যেই যেন তারা বকেয়াসহ সম্মানী ভাতা পান, সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করছি।


প্রকাশিত: November 14, 2025 | সময়: 6:54 am | সুমন শেখ