সর্বশেষ সংবাদ :

শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে প্রাথমিকে অচলাবস্থা

স্টাফ রির্পোটার: ১০ম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত সহকারী শিক্ষকদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে রবিবার থেকে সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এতে জেলার শিশু শিক্ষার্থীর ক্লাস বন্ধ হয়ে গেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এলেও শিক্ষকরা পাঠদান বন্ধ রেখেছেন। বাধ্য হয়ে ক্লাস না করেই ফিরে যেতে হয়েছে শিশু শিক্ষার্থীদের। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই হিসেবে মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি আছে পরীক্ষার। এমন সময়ে শিক্ষকরা দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠে নামায় এবং সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন অভিভাবকরা।
সোমবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখতে পাওয়া যায়, ক্লাসে শিক্ষক না আসায় শিশু শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে একে অপরের সাথে আড্ডা ও গল্পে মেতেছে। পাঠদান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা মেতে উঠেন নানা ধরণের খেলাধূলায়। কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা বললে তারা জানান, শিক্ষকদের কর্মবিরতীতে পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফ বলেন,“আমাদের নায্য দাবির এই আন্দোলন চলছে। আমাদের দাবি যত তাড়াতাড়ি মেনে নেওয়া হবে, আমরা তখনই ক্লাসে ফিরে যাবো।”
পুঠিয়া উপজেলার ভরত মাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুবাশিত শায়লা বলেন,“আমাদের দীর্ঘদিনে দাবি হচ্ছে দশম গ্রেড। দশম গ্রেড না দিয়ে আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনে পুলিশ বাহিনীর হামলার প্রতিবাদে আমাদের কর্মবিরতী চলছে এবং দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত চলবে।”
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক গোলাম আরিফ বলেন, “বিশ্বের কোনো দেশেই শিক্ষকদের এত কম বেতন দেওয়া হয় না। একই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অন্য সরকারি কর্মকর্তারা দশম গ্রেড পাচ্ছেন, কিন্তু আমরা বঞ্চিত। এই বৈষম্য দূর করাই আমাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। আমরা উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সফল করার জন্য শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বিরতিতে রয়েছি।”
রাজশাহী জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুন-অর রশিদ বলেন,“আমরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৈষম্যের শিকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন দিতে হবে। চাকরিতে যোগদানের ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দিতে হবে এবং বিভাগীয় পদোন্নতিতে শতভাগ নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে। দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”


প্রকাশিত: November 11, 2025 | সময়: 5:02 am | সুমন শেখ

আরও খবর