, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: নানা আয়োজনে ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীতে পালিত হয়েছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এ উপলক্ষে শুক্রবার সকাল ৭টায় রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতৃবৃন্দ জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা ও বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। রাজশাহী মহানগর বিএনপির আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও রাসিক সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন ও রশিদ মামুন এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, জয়নুল আবেদীন শিবলী ও মুক্তার হোসেন মুক্তার, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুল হক মন্টু ও কার্যনির্বাহী সদস্য ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা।
আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপি অন্তর্গত বোয়ালিয়া থানা বিএনপির (পশ্চিম) সভাপতি শামসুল ইসলাম মিলু, সাধারণ সম্পাদক বজলুজ্জামান মহন, বোয়ালিয়া থানা (পূর্ব) বিএনপি’র সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিপু, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, কাশিয়াডাঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিউল আহসান হিমেল, রাজশাহীর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক ও সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি, মহানগর কৃষকদলের আহবায়ক শরফুজ্জামান শামীম, মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখি, সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন, মহানগর মহিলা দলের নেত্রী গুলশানারা মমতা ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি সহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির সকল দলীয় কার্যালয় সমূহে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং মাইকে কোরআন তেলাওয়াত ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাসন প্রচার করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিনু বলেন, আজকের এই দিনে সেপাই জনতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করেন। মুক্ত করার পরে তারা জিয়াউর রহমানকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনের জন্য দায়িত্ব প্রদান করেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরেই বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাসহ দেশের উন্নয়নে কাজ শুরু করেন। তিনি কৃষির উন্নয়নে খাল খনন থেকে শুরু করে সেচ পাম্প আমদানী করেন।
তিনি আরো বলেন, দেশে নির্বাচনের হাওয়া বইছে। এই নির্বাচন বানচাল করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর বাটার মোড় থেকে আনন্দ র্যালি বের করা হয়। নেতৃবৃন্দ র্যালি নিয়ে মহনাগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলুপট্টি, দৈনিক বার্তার মোড় গিয়ে শেষ করেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়। র্যালিতে সকালের ন্যায় নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। শুক্রবার দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত কর্মসুচির মধ্যেছিলো পতাকা উত্তোলন, পায়রা উড়ানো, র্যালি, আলোচনা সভা।
পবা: ৭ নভেম্বর হচ্ছে বিএনপির একটি ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে বাংলার রাখালরাজা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টমেন্টের বন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করেছিলো সিপাহী-জনতা। তৎকালীন সরকার মেজর জিয়ার পরিবারসহ ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবর্তিত সময়ে দেশ যখন অন্যাদিকে মোড় নিয়েছিলো, ঠিক তখনই জিয়ার প্রয়োজন অনুভব করে সাধারণ জনগণ ও সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাঁকে ভালবাসতেন। এজন্য তারা এই দিনে আন্দোলন করে মেজর জিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মুক্ত করেন বলে উল্লেখ করেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
শুক্রবার বিকেলে পবা থানা মোড়ে নওহাটা পৌর বিএনপি ও পবা উপজেলা বিএনপি’র আয়োজনে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে র্যালি পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন। তিনি বলেন, পতিত সরকার ৭নভেম্বরকে চিরতরে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলতে নানা ধরনের অপকৌশল করেছিলো। কিন্তু বিএনপি শত বাধা উপেক্ষা করে প্রতিবছর এই দিনটি পালন করেছে। আজও পালন করছে বাঙালী জাতি। দেশে কোটি কোটি লোক এইদিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করছে।
মিলন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের হাল ধরে প্রথমে গণতন্ত্র পূণরুদ্ধার করেন। কারণ গণতন্ত্রই হচ্ছে ক্ষমতায়নের মুল চাবিকাঠি। সবার আগে বাংলাদেশ। এই দেশকে সুন্দরমত গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বাংলাদেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে মিলন বলেন, একটি দল দেশকে আবারও পিছিয়ে নিতে কাজ করছে। তারা নির্বাচন বানচালে গভীর ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্র বিএনপিকে রুখে দিতে হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি জরেসরে চলছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য মাস ও ক্ষণ ঘোষনা করেছে অন্তর্বতীকালীন সরকার। কিন্তু এখন জামায়াত নির্বাচন বাতিলের জন্য নানা ষড়যন্ত্র করলেও তারা প্রতিটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী দিয়েছে। নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি তারা সম্পন্ন করেছে। অথচ দেশের জনগণকে ধোকার মধ্যে রাখতে তারা ছলনার আশ্রয় নিয়েছে বলে জানান তিনি। এই ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্য, ঐক্য ও ঐক্য থাকতে বলে জানান মিলন। সেইসাথে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সবাইকে মাঠে থাকার আহ্বান তিনি। বক্তব্য শেষে বর্নাঢ্য র্যালি বের করা হয। প্রধান অতিথি এই র্যালিতে নেতৃত্ব দেন। নেতাকর্মী পবা থানার মোড় হতে র্যালি নিয়ে নওহাটা কলেজ মোড়ে এসে শেষ করেন।
আলোচনা সভা ও র্যালিতে সভাপতিত্ব করেন নওহাটা পৌর বিএনপি’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক। সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রাকিবুল ইসলাম পিটার এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওহাটা পৌর সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপি’র সদস্য শেখ মকবুল হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ ও আব্দুুল মান্নাফ মুন্নাফ, নওহাাট পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান।
এছাড়াও জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত ও সদস্য সচিব আকুল হোসেন মিঠু, বিএনপি নেতা গোলাম মোর্তুজা, এমদাদুল হক, শরীফুর রহমান শরীফ, জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ড. মোজাফফর হোসেন মুকুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান লিটন, সদস্য সচিব শাহরিয়ার আমিন বিপুল, নওহাটা পৌর ১নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলর আবজাল হোসেন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কে.এইচ রানা শেখ, সদস্য ইফতেখারুল ইসলাম ডনি, নওহাটা পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সুজন মোল্লা, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজান, মিলন, আজাদ, সুমন, মকসেদ ও ইলিয়াস, জেরা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রুমেনা হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফরিদা বেগম ও সাংগঠনিক সম্পাদক রীতা খাতুন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রহমানসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চারঘাট: শুক্রবার বিকেলে চারঘাট উপজেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজনে র্যালী শেষে চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির মনোনীত আবু সাইদ চাঁদ।
চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র জাকিরুল ইসলাম বিকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা, পৌর বিএনপির সভাপতি মমিনুল ইসলাম মমিন, সাধারন সম্পাদক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুর রহমান, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাব্বির হোসেন মুকুট, শলুয়া ইউনয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মাসুম, নিমপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
বিএনপি নেতা রায়হান: জেলা বিএনপির সদস্য মো. রায়হানুল আলম রায়হান বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান একই সূত্রে গাঁথা- উভয় আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জনগণের ভোটাধিকারের পুনরুদ্ধার।
তিনি বলেন,“বাঙালি জাতির ইতিহাসে প্রতিটি গণআন্দোলনের পেছনে ছিল মানুষের মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম। পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর সেই চেতনার প্রতীক; আর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান তার আধুনিক রূপ। এই দুই ঐতিহাসিক অধ্যায়ই বাঙালি জাতিকে শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছে।
রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের আশরাফের মোড়ে উপজেলা বিএনপির আয়োজিত ‘৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। দিবসটি উপলক্ষে সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানো এবং শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রায়হান বলেন, “১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ও সার্বভৌম মর্যাদার সূচনা হয়েছিল। তখন সেনা-জনতার ঐক্য গণতন্ত্রের পথে নতুন দ্বার খুলেছিল। একইভাবে, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই ৭ই নভেম্বর কেবল একটি দিন নয়, এটি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। এই চেতনা আজ আবার জাগিয়ে তোলার সময় এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন এক ভিশনারি নেতা, যিনি স্বাধীনতার পর ভাঙা রাষ্ট্রকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরেই আমরা ‘বাঙালি’ থেকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেছি। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ছিল জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।”
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে রায়হান বলেন, “৭ নভেম্বরের চেতনা গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক মুক্তি, শান্তি-শৃঙ্খলা, সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রতীক। গত ১৫ বছরে দেশে একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হয়েছিল; গণতন্ত্রের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ বারবার প্রমাণ করেছে, তারা গণতন্ত্রের পক্ষে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সেই ঐতিহাসিক প্রতিরোধেরই ধারাবাহিকতা।”
তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদ যাতে আর কখনো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে, তার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট নয়-এটি মানুষের মর্যাদা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। এই মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো কাজ করে যাবে।”
ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে রায়হান বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেনা অভ্যুত্থানের পর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। তখন সৈনিক ও সাধারণ মানুষ মিলেই ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটায়। সেই আন্দোলনে বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন এবং পরে দেশের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি জাতীয় ঐক্য, আত্মনির্ভরতা ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করেন।”
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি খায়রুল ইসলাম, হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা হিটলার, পবা উপজেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাজদার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মুস্তাক আহমেদ। অনুষ্ঠানে পবা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
গোদাগাড়ী: আলোচনা সভায় গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মো: শরীফ উদ্দিন।
আলোচনা সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। আলোচনা সভা ও র্যালিতে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ সদর উদ্দিন, গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আব্দুল মালেক, গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মাহবুব, গোদাগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহিদুর রহমান বাক্কার, গোগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ দিলিপ, দেওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই টুনু, উপজেলা মৎস্যজীবি দলের আহবায়ক আব্দুল জলিল রবু, কাকনহাট পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক হবিবুর রহমান, গোদাগাড়ী উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন বাবু, রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক অরণ্য কুসুম, গোদাগাড়ী পৌর যুব দলের আহবায়ক মাহবুবুর রহমান বিপ্লব, গোদাগাড়ী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মাসুদ রানা, রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য মাহফুজুর রহমান ডালিম, পৌর সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কুরবান আলী, গোদাগাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বেদারুদ্দিন বিদ্যুৎসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের বিপুল নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
ক্ষেতলাল: উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদুল মাছুদ আঞ্জুমানের সভাপতিত্বে পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির এমপি প্রার্থী মোঃ আব্দুল বারী। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাসক নাফেউল হাদী মিঠুর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী আসিক পার্থ, পৌর বিএনপির সভাপতি প্রভাষক আব্দুল আলীমসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আত্রাই: নওগাঁর আত্রাইয়ে উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আত্রাই উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল জলিল চকলেট-এর সভাপতিত্বে এবং আত্রাই উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. ইকবাল পারভেজ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও নওগাঁ- ০৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের বিএনপির মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী এসএম রেজাউল ইসলাম রেজু।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন আত্রাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল মান্নান সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক ও কামরুল হাসান সাগর, উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক খোরশেদ আলম প্রমুখ। বক্তারা সকলেই জাতীয় সংহতি এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।