, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: বিভিন্ন স্থানে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য দাবী মেনে নিয়ে তা অবিলম্বে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জারির দাবিতে ও আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জয়পুরহাট: জয়পুরহাটে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলা কলেজ শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের জিরো পয়েন্ট পাঁচুর মোড়ে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ’বিপন্ন শিক্ষা বাঁচাতে এগিয়ে আসুন” এই শ্লোগানে জেলার তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এতে অংশ নেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, জেলা কলেজ শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি এ বি এম মুছা, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব, সংগঠনের সাধারণ স¤পাদক অধ্যক্ষ আব্দুল মোমিন মন্ডল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যক্ষ আলী হাসান মুক্তা, সাংগঠনিক স¤পাদক বিদ্যুৎ বিশ্বাস, নির্বাহী সদস্য মেহনাজ পারভীন প্রমুখ।
আক্কেলপুর প্রতিনিধি: তিন দফা দাবি আদায়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে তারা ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ঘন্টা ব্যাপী থালা হাতে এই ভুখা কর্মসূচী পালন করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পরিশ্রম করছেন, কিন্তু নিজেরাই মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে সমাবেশে জানান শিক্ষকরা।
এসময় শিক্ষকরা সরকারের কাছে তাদের তিন দফা দাবি আদায়ের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পরও আমাদের দাবি পূরণ হয়নি। শিক্ষক-কর্মচারীদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা এবং চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি করতে হবে।
শিক্ষকরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানান, তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে থালা হাতে অবস্থান নেওয়া তাদের দৃঢ় মনোভাব ও অনড় প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কানুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.কে.এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা শিক্ষার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছি, অথচ নিজেদের জীবন মানবেতর হয়ে উঠছে। সরকারের উচিত আমাদের ন্যায্য দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়া।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: উপজেলার এমপিওভূক্ত ৭টি কলেজ, ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৮টি মাদরাসা ও চারটি কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বতস্ফূর্ত ভাবে চলছে কর্মবিরতি। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষকেরা ঢাকায় আন্দোলনে গেছেন। বাকিরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানেই অফিসে অলস বসে থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন। ধর্মঘট শুরুর দিন থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। এতে উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যত থমকে গেছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, পরীক্ষার সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে গেছে। অভিভাবকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের কারণে শিক্ষাবর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এ সময় ক্লাসে না গিয়ে শিক্ষকেরা অফিস কক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়। জানতে চাইলে তারা বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ন্যায্য দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো ক্লাস নিবেন না তারা।
এ সময় জানতে চাইলে বাগডোব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে মুল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা, কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ এবং বৈষম্যমূলক বেতন কাঠামো বনপাড়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,‘সরকার প্রতি বছর বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বললেও শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ খুবই সীমিত। ন্যায্য বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি না হলে শিক্ষক সমাজের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হবে।’
লালপুর প্রতিনিধি: উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে গোপালপুর বাজার ও রেলগেট সহ গুরুত্বপূর্ন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে সমাবেশ করে শিক্ষক-কর্মচারীরা। সমাবেশ শেষে উপজেলা নির্বাহী আফিসারের নিকট দাবি সম্বলিত স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।
উপজেলার মোহরকয়া ডিগ্রী পাশ ও অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ ড. ইসমত হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, গোপালপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ বেলাল হোসেন, পাইকপাড়া মাদ্রাসার সুপার আবুল কালাম আজাদ, গোপালপুর ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, মোহরকয়া নতুনপাড়া ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট এর সহকারী শিক্ষক মনজিরা খাতুন, আখচাষী নেতা আনছার আলী দুলাল প্রমুখ।
বক্তারা দাবি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি ও ঢাকায় শিক্ষকদের আন্দোলনে অংশগ্রহন চারিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেন।
শিবগঞ্জ: সত্রাজিতপুর আলাবক্স মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ শিক্ষক কর্মচারী কল্যান সমিতির উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। এ কর্মসূচির সাথে একাত্নতা ঘোষণা করে সত্রাজিতপুর ফাযিল মাদ্রাসা, সত্রাজিতপুর উচচ বিদ্যালয়,চন্ডিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক,কর্মচারীগণ এতে অংশ নেন। এতে বক্তব্য দেন আলাবক্স মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোরশেদুল হক,ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মো: এনামুল হক এবং উ”চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা। এসময় অংশগ্রহনকারীরা দ্রুত শিক্ষকদের ৩ দফা মেনে নিয়ে শিক্ষকদের রাজপথ থেকে শ্রেণীকক্ষে ফিরে যেতে সহযোগীতা করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মো.ওবাইদুর রহমান, শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ তরিকুল আলম সিদ্দিকী নয়ন, আব্দুল হামিদ, আমিনুল ইসলাম, নামোশংকরবাটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, শহীদ স্মৃতি কলেজ এর প্রভাষক মেহেদি হাসান সহ অন্যান্য কলেজের শিক্ষকগন।
এ সময় বক্তারা বলেন, শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করছে। অথচ রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাদের উপর হামলা করে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আগের ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে নির্যাতন নিপীড়ন করে আন্দোলন দমন করেছে, এই সরকারও একই কাজ করছে।