সর্বশেষ সংবাদ :

ভাঙনে কমছে চর আষাড়িয়াদহের আয়তন

সাইফুল ইসলাম, গোদাগাড়ী: পদ্মার ভাঙনে দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা রাজশাহীর চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন। প্রতিবছর নদীভাঙনের কারণে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৩৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই চরটির আয়তন কমছে। এবারও পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চরের চারটি গ্রমের অন্তত ৫০ মিটার করে এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়িঘর হারিয়ে অন্তত ২০০ পরিবার এ পারে আশ্রয় নিয়েছে।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম জানান, এবার পানি বৃদ্ধির কারণে ইউনিয়নের ১, ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামগুলো ডুবে যায়। তখন অনেকে চর ছেড়ে পারে চলে যান। কেউ কেউ আবার পানির মধ্যেই কষ্ট করে বসবাস করছিলেন। কয়েকদিন আগে পানি নামতে শুরু করলে ভাঙন তীব্র আকার নেয়। এরইমধ্যে আবার কয়েকদিন ধরে দ্বিতীয়দফায় পানি বাড়ছে। এবার সবমিলিয়ে প্রায় ২০০ পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হঠাৎপাড়া, চর বয়ারমারি, কামারপাড়া, জামাইপাড়া, আদর্শ পাড়া, আমিন পাড়া, মেকাইল পাড়া ও আমতলা খাসমহল গ্রামে ভয়াবহ ভাঙন চলছে।
জামাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান জানান, পদ্মার ভাঙনে ইতিপূর্বে দুইবার বাড়ি সরাতে হয়েছে তাঁকে। এবার অর্ধেক বাড়ি নদীতে ভেঙে পড়েছে, বাকিটা নৌকায় তুলছেন। এবার ওপারে ভাইয়ের বাড়ি চলে যাচ্ছেন তিনি।
চরের গৃহহারা মানুষজন নৌকায় করে মালামাল নিয়ে এসে উঠছেন গোদাগাড়ীর ফুলতলা ঘাটে। সেখানে আমিনপাড়া গ্রামের আশরাফুলের ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ১৫ বছর আগে ভাঙনের কারণে একবার বাড়ি সরাতে হয়েছিল। এবার আর চরেই থাকার উপায় নেই। তাই আমতুলি এলাকায় আড়ায় কাঠা জমি কিনে সেখানে চলে যাচ্ছেন। আশরাফুল জানান, ‘এই কয়দিনে অন্তত ৪ রশি ভেঙে গেছে। প্রায় ১৫০ পরিবার চর ছেড়েছে, আরও অনেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
নৌকা থেকে মালপত্র নামাতে নামাতে কথা হয় চর বয়ারমারির বাসিন্দা তাহেরা খাতুনের সঙ্গে। তিনি জানান, ছয় বছর আগেও একবার ভাঙনের কারণে বাড়ি ভেঙেছিল। জন্ম থেকে চরেই থাকলেও আর টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। এবার কানাইডাঙ্গা গ্রামে ভাসুরের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন। পরে জমি কিনে নতুন বাড়ি করার ইচ্ছা তাঁর।
চর আষাড়িয়াদহের ডানদিকে ভারতীয় সীমানা, বামে পদ্মা নদী। এভাবে চর ভেঙে গেলে তা একসময় হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তখন পদ্মা নদীর এই অংশটিও ঢুকে যাবে ভারতে। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘চরটিকে রক্ষা করতে হবে। না হলে একসময় মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে আষাড়িয়াদহ। নদী ঢুকে পড়বে ভারতে।’
তিনি বলেন, ‘চরের মানুষ এখন অসহায়। সরকারি-বেসরকারি তেমন কোনো সহায়তা পাইনি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাত্র ১০ কেজি চাল দেওয়া গেছে। অথচ যাদের ঘরবাড়ি নদীতে গেছে, তাদের জন্য এটা কিছুই নয়। সরকারকে এখনই পাশে দাঁড়াতে হবে।’
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫০টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। চর থেকে অসুস্থ রোগিদের এ পারে আনার জন্য একটি স্পিড বোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি হচ্ছে, শিগগিরই সরকারি সহায়তা হিসেবে ঢেউটিন দেওয়া হবে।


প্রকাশিত: September 22, 2025 | সময়: 3:08 am | সুমন শেখ