, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার শালবন পশ্চিমপাড়া গ্রামে তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকা তাসনিয়া খাতুন (১০) নামে এক শিশুর গলাকাটা মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করেছে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ৮ টার দিকে ওই গ্রামের মান্নানের ছেলে একরামুল ইসলামের বাড়ির গোয়াল ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত তাসনিয়া ওই গ্রামের এরশাদ হোসেনের একমাত্র মেয়ে ও স্থানীয় বটতলী বাজারের সানরাইজ মডেল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আটককৃতরা হলো একরামুল ইসলামের স্ত্রী হাবিবা খাতুন (৩৫) ও একই গ্রামের রাজ্জাকের স্ত্রী আজুয়ারা (৬৫)।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই তাসনিয়া নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পাওযায় পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষেতলাল থানায় জিডি করা হয়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশীরা একরামুলের বাড়ী থেকে প্রচন্ড দুর্গন্ধ পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। এক পর্যায়ে একরামুলের গোয়াল ঘরে সন্দেহজনক একটি বস্তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বুঝতে পেরে তারা বস্তা খুলে তাসনিয়ার গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় কৌশলে একরামুল বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জয়পুরহাট হাসপাতালের মর্গে পাঠান। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একরামুলের বাড়ি ঘিরে ফেলেন এবং ওই দুই জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। মর্মান্তিক এ হত্যাকান্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক একরামুলের বাড়ীতে ভাংচুর চালিয়েছে এবং তারা দ্রুত ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল করিম জানান, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় জিডি করে হয়েছিল। পরে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে এবং এ ঘটনায় দুই জনকে আটক করা হয়েছে।