খাদ্য গুদামের উপপরিদর্শক বাচ্চু মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত : বাগমারার খাদ্য গুদামে পচা দুর্গন্ধ চাল ধরলেন ইউএনও

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারার খাদ্যগুদামে বিপুল পরিমাণ পচা ও নিম্নমানের চাল মজুত করার অভিযোগে ভবানীগঞ্জ খাদ্যগুদামের উপপরিদর্শক বাচ্চু মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে নওগাঁর নিয়ামতপুরে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্যনিয়ন্ত্রক মাইন উদ্দিন স্বাক্ষর করা আলাদা দুইটি চিঠিতে এই আদেশ দেন।
চিঠিতে তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবার বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম ও রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের কারিগরি পরিদর্শক সিহাবুল ইসলাম সরেজমিনে পরিদর্শনে গুদামে নিম্নমানের চাল দেখতে পেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বরখাস্ত হওয়া উপপরিদর্শক বাচ্চু মিয়া গুদাম থেকে ভালো মানের চাল অন্যত্র সরিয়ে নিম্নমানের চাল ঢুকিয়েছেন। এটা অনিয়ম তা খারাপ উদ্দেশ্যে করেছেন। এর প্রেক্ষিতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার এই আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সান্তাহার খাদ্য গুদামের পরিদর্শক মকদুবুল হক বিশ্বাসকে ভবানীগঞ্জ খাদ্যগুদামে পরিদর্শক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেতৃত্বে একদল কর্মকর্তা উপজেলা খাদ্য গুদামে আসেন। তাঁরা উপজেলার ভবানীগঞ্জ খাদ্য গুদামগুলোতে অভিযান চালান। পাশাপাশি থাকা তিনটি গুদামেই অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে থাকা চালের বস্তা ছিদ্র করে দেখেন। সেখানে দুর্গন্ধ পচা ও নিম্নমানের চাল দেখতে পান। এভাবে কয়েকশ বস্তা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিম্নমানের চাল পান। পরে গুদাম তিনটি থেকে চার বস্তা চাল নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করেন এবং গুদাম তিনটি সিলগালা করে দেন।
জানা যায়, বড় মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ২৭২৩ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়। এ পরিমাণ ধান থেকে প্রায় ১৮০০ মেট্রিক টন চাল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ধানগুলো থেকে চাতাল মালিকদের মাধ্যমে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাল করে গুদামে মজুদ করার বিধান রয়েছে। তবে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা বাজার থেকে নিম্নমানের চাল কিনে গুদামে রেখেছেন। এছাড়াও এ বছর মিলারদের কাছ থেকেও নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
সম্প্রতি চালগুলো দুস্থ নারী ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের দেওয়া হয়। সেখানে চালগুলো পচা, দুর্গন্ধ ও নিম্নমানের বলে দেখা যায়। গুদামে থাকা চালগুলোও দুস্থ নারী সহ সুবিধাভোগীদের জন্য মজুদ করা হয়েছিল।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সুবিধাভোগী দুস্থ নারীদের এসব পচা দুর্গন্ধ ও নিম্নমানের চাল দেওয়া হচ্ছিল। খাদ্য গুদামে এসে এর সত্যতা পেয়েছেন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নবী নওয়াজেস আমিন বলেন, এসব সংগ্রহ করার দায়িত্বে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা থাকেন। এ বিষয়ে তার দায়িত্ব নেই।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বাচ্চু মিয়ার বদলি ও সাময়িক বরখাস্তের বিষয় নিশ্চিত করে জানান, এই ধরনের অপরাধ ক্ষমা করা যায় না। আগের দিন গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া বলেছিলেন, কৃষকেরা কিছু ধান খারাপ দিয়েছেন, সেগুলোর চাল নিম্নমানের হতে পারে। তবে কিছু ভুল রয়েছে বলে স্বীকার করেন।


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৫ | সময়: ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর