, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ: গত বছরের ৫ আগস্টের পর মাটি ভরাটের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই লাপাত্তা হয়েছেন ঠিকাদার। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার (সাইলো) নির্মাণের কাজটি।
সাইলোটি আর আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। তাই ওখানে এখন ফলদ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করছেন খাদ্য বিভাগ।
এদিকে দায়সারা এই প্রকল্পের কাজে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের অর্থ লোপাটের চেষ্টা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডার খ্যাত নওগাঁ জেলায় খাদ্য শস্য সংরক্ষণে ৫৮ হাজার ৪৭৫ টন ধারণক্ষমতার ২০টি খাদ্য গুদাম রয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশ খাদ্য গুদাম বছরের বেশিরভাগ সময় ফাঁকা থাকে। এরপরও ৪৮ হাজার টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্য সংরক্ষণাগার (সাইলো) নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় তৎকালীন সরকার। যাতে সাইলোটি নির্মিত হলে জেলার ১১টি উপজেলা সহ আশেপাশের জেলায় উৎপাদিত উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য সরকারিভাবে সংগ্রহ করা সহজ হবে।
খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, সাইলোটি সম্পূর্ণ স্টিল দিয়ে নির্মাণে সরকারের ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ৫৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এরমধ্যে শুধু মাটি ভরাটের বরাদ্দ ৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের ভূমি উন্নয়নের জন্য যৌথভাবে কার্যাদেশ পেয়েছে ঢাকার মেসার্স চন্দ্রদ্বীপ কনস্ট্রাকশন, রাজশাহীর মেসার্স ডন এন্টারপ্রাইজ ও নওগাঁর মেসার্স ইথেন এন্টারপ্রাইজ। গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভূমি উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
জানা যায়, ২০২২ সালের শেষ দিকে নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ভীমপুর এলাকায় ১৫ একর (৪৫ বিঘা) জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এরপর মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়। মাটি ভরাটের কাজ ৯৫ শতাংশ হলেও প্রায় ৩ বছর থেকে তা পড়ে রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে গা ঢাকা দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও। এরপর থেকে সাইলো নির্মাণের কাজটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সাইলোটি আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। বর্তমানে স্থানীয়দের গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আবার ফুটবল খেলার কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
উপজেলার নওহাটা এলাকার বাসীন্দা শাহজাহান বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত খাদ্যগুদাম আছে এবং সংরক্ষণ করা যায়। তারপরও তৎকালিন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে সাইলোটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে সাইলো প্রকল্পটির কাজ বন্ধ রয়েছে। আদৌ সাইলো হবে কিনা তা জানা নেই। তবে সাইলো যদি না হয় সেখানে অন্য যেকোনো উন্নয়ন কাজে জায়গাটি ব্যবহার করা হোক।
ভীমপুর গ্রামের আরমান আলী অভিযোগ করে বলেন, তিন ফসলি জমিকে এক ফসলি দেখিয়ে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। আবার ভরাটের সময় বালুর পরিবর্তে এঁটেল মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাই।
একই গ্রামের আব্দুল মান্নান বলেন, গত ৩ বছর থেকে সাইলো নির্মাণের কথা শুনে আসছি। এজন্য মাটিও ভরাট করা হয়েছে। এতে খাদ্য-শস্য সংরক্ষণ হবে এবং এলাকার উন্নয়ন হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে এবং ফুটবল খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নওগাঁ চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, এ জেলায় প্রায় ২৭ লাখ টন ধান উৎপাদন হয়। সরকারি ভাবে খাদ্য-শস্য সংগ্রহের সময় জেলার খাদ্য গুদামগুলো খালি করে সংগ্রহ করতে হয়। অনেক সময় পাশের বগুড়া জেলার সান্তাহারে অবস্থিত সাইলো ও কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম (সিএসডি) সহ চারটি খাদ্য শস্য সংগ্রহ প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করতে হয়। এতে ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ।
এ কারণে কৃষক ও ব্যবসায়িদের ধান-চালের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ওই সাইলোটা নির্মাণ প্রয়োজন।
নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফরহাদ খন্দকার জানান, সাইলো নির্মাণে মাটি ভরাটের কাজ ইতোমধ্যে ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। কাজের এখনো ১০ শতাংশ টাকা জামানত হিসেবে রক্ষিত রয়েছে। তবে অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখে লাপাত্তা। গত ৫ আগস্টের পর থেকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে কি ধরণের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে তা অধিদপ্তর ভাল বলতে পারবেন। তবে খালি জায়গায় ফলদ গাছের চারা রোপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত রয়েছে।