, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয়েছিল দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। কিন্তু বর্তমানে এসব ক্যামেরার অধিকাংশই গায়েব হয়ে গেছে। ফলে ভারত সীমান্তবর্তী পৌর এলাকায় বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, হত্যাকান্ড সহ নানা অপরাধ। তবে শিগগির নতুন করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, পাঁচবিবি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার অন্তর্গত ‘ক’ শ্রেণির একটি পৌরসভা। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ১০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় জনসংখ্যা ৩৬ হাজার ৭২৫ জন। পৌরসভাটি ভারত সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় নানাবিধ অপরাধ লেগেই থাকে।
এ অবস্থায় ২০২৩ সালে পৌর প্রশাসন ও থানা পুলিশের উদ্যোগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২ শতাধিক বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ফলে অপরাধপ্রবণতা অনেকটাই কমে আসে। কিন্তু ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন একশ্রেণির বিক্ষুব্ধ জনতা পৌর শহরের প্রায় সব সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। আবার কেউ কেউ সেগুলো খুলে নিয়ে যায়। ফলে সীমান্তবর্তী এই পৌর এলাকায় বেড়েছে চুরি, ছিনতাই, হত্যাকান্ড সহ নানাবিধ অপরাধ।
পৌর শহরের পাঁচমাথা এলাকায় রিকশা চালক আব্দুর রহমান জানান, আগে দিনরাতে অটো চালাতাম। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় ভয় পেতাম না। এখন রাস্তার ধারে অটো রেখে কোথাও যেতে ভয় লাগে। বেশ কয়েক দিন ধরে শহরের চুরির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে অধিকাংশ সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো।
ছাত্রদল নেতা শামীম হোসেন বলেন, বিভিন্ন জায়গায় যেসব সিসিটিভি ক্যামেরা আছে সেগুলো যদি অকেজো হয়ে থাকে, তা দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কারণ, বর্তমানে পৌরশহর থেকে শুরু করে এ উপজেলায় বেশ কিছু এলাকায় চুরি-ছিনতাই বেড়েছে।
পাঁচবিবি বণিক সমিতির সভাপতি তাইজুল ইসলাম বলেন, এ শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত দুই হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগে আমরা খুব স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা বাণিজ্য করতাম। কিন্তু সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো গায়েব হওয়ার কারণে এখন অনেকটা আতঙ্কে ব্যবসা করতে হয়। আমরা চাই দ্রুত ক্যামেরাগুলো পুনঃস্থাপন করা হোক।
এর আগে গত ২০২৩ সালে পাঁচবিবি পৌর ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো থানা এবং পৌরসভার কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হলেও এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না। বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকটি ইলেকট্রিক পোলে ক্যামেরা থাকলেও বেশিরভাগ সেটআপ বক্স আর তার ঝুলতে দেখা যায়। পৌর এলাকা এবং উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে আগের মতো ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানালেন পৌর ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
পাঁচবিবি পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মারুফ আহসান বলেন, আমরা এরই মধ্যে পৌর প্রশাসকের নির্দেশে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর পয়েন্ট নির্ধারণের কাজ শুরু করেছি। এ বিষয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। আশা করছি দ্রুতই পৌরবাসীর ভোগান্তি এড়াতে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো পুনঃস্থাপন করা হবে।
পাঁচবিবি থানার ওসি মইনুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সিসিটিভি ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ লক্ষ্যেই পৌরসভা ও পানার উদ্যোগে ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অধিকাংশ ক্যামেরা ভাঙচুর ও খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তবে আবারও নতুন করে স্থাপনের চেষ্টা করছি।