সর্বশেষ সংবাদ :

পবায় বিএনপি নেতা রায়হান: বিএনপি’র ৩১ দফা রূপরেখা জনগণের হাতে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দেবে

স্টাফ রিপোর্টার: “বিএনপি’র ৩১ দফা রূপরেখা কেবল একটি দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি দেশের ভঙ্গুর রাষ্ট্র কাঠামোকে মেরামত করে জনগণের হাতে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার একটি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ও রূপরেখা।”
শুক্রবার বিকেলে পবার আলীর মোড় এলাকায় এক উঠান বৈঠকে দৃপ্ত কণ্ঠে এ কথা বলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. রায়হানুল আলম রায়হান। দেশব্যাপী চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ রূপরেখা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উঠান বৈঠক ও গণসংযোগের আয়োজন করা হয়। হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। উঠান বৈঠক শেষে রায়হানুল আলম রায়হানের নেতৃত্বে একটি পথসভায় সর্বস্তরের জনগণের মাঝে ৩১ দফার রূপরেখা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়, যা উপস্থিত মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রায়হানুল আলম রায়হান বর্তমান সরকারের নীতিমালার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার তাদের এক দশকের বেশি শাসনামলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছিল। দেশের ব্যাংক খাত আজ বিপর্যস্ত, রিজার্ভ সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যই বিএনপি তার ৩১ দফা রূপরেখায় একটি টেকসই ও শক্তিশালী অর্থনীতির কথা বলেছে।”
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকারকে গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি কীভাবে গণমাধ্যমকে রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং সত্য প্রকাশে বাধা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণমাধ্যমকর্মীদের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।”
বিএনপির অতীত কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রায়হানুল আলম বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী, এই দেশে ইতিবাচক সকল সংস্কার বিএনপির হাত ধরেই হয়েছে। বিএনপি সরকারই বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিল। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গঠন করেছিল। আমরা কথার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তা কাজে বাস্তবায়ন করে দেখায়।”
বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এই রূপরেখায় একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, এক ব্যক্তির শাসন চিরস্থায়ী করতে না পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুইবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার মতো যুগান্তকারী বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের নীলনকশা।”
তিনি দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুশাসন নিশ্চিত করার সংগ্রামে বিএনপির এই কর্মসূচির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির নেতা নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজের সঞ্চালনায় এই প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহদাত হোসেন সরকার হাবিব, মহানগর বিএনপির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন স্বপন, পারিলা ইউনিয়নের প্রবীণ নেতা খায়রুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আলামীন হোসেন, ছাত্রদল নেতা মোস্তাক আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সিয়াম উদ্দিন, যুবদল নেতা মিলন হোসেন, ইনতাজ, শফিকুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, শহিদুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম, রতন, আলমগীর হোসেন, সবুজ, ফিরোজ প্রমুখ।


প্রকাশিত: July 26, 2025 | সময়: 6:26 am | সুমন শেখ

আরও খবর