সর্বশেষ সংবাদ :

আরডিএ’র একাধিক মেগা প্রকল্প : পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে নগরীর সৌন্দর্য্য

সবুজ ইসলাম: রাজশাহী শহরের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সম্প্রসারণ, বাসাবাড়ি পরিকল্পনা এবং নগর ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটি একটি নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান রাজশাহী নগরীর ৩৬৫ দশমিক ৫৫ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চল নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন, নওহাটা পৌরসভা,কাটাখালি পৌরসভা, চারঘাট পৌরসভা (আংশিক), দামকুড়া, হড়গ্রাম, হরিপুর, হুজুরিপাড়া, হরিয়ান, বড়গাছি,পারিলা, ইউসূফপুর, বেলপুকুর, বাণেশ্বর ও সলুয়া ইউনিয়ন পরিষদ সহ মোট ১৫টি প্রশাসনিক এলাকা নিয়ে তাদের কার্যক্রম।
সময়ের সাথে সাথে রাজশাহী শহরকেন্দ্রিক হয়ে পড়লে অনেকটা অপরিকল্পিত আবাসিক আবাসিক ভবন ও বাণিজ্যিক ভবন গড়ে ওঠে। এ অনিয়মিত নগরায়নে শৃঙ্খলা নিয়ে আসার জন্য রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পরিকল্পতি নগরায়নে বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে। নগর পরিকল্পনার পাশাপাশি আধুনিক ও পরিকল্পিত শহর বির্নিমাণে আবাসন সমস্যার সমাধান, বাণিজ্যিক ও অর্থনেতিক সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি, যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন চলমান রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরডিএ বাস্তবায়ন করেছে একাধিক মেগা প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছে নগরীর বাইপাস সড়ক উন্নয়ন, নতুন রোড নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, আধুনিক হাউজিং প্রকল্প এবং সবুজায়নের কার্যক্রম। এছাড়াও পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত করছে সংস্থাটি।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্যনুযায়ী, নাটোর রোড় (রুয়েট) হতে বাইপাস রোড় পর্যন্ত ২০৬ কোটি ৬৩ লক্ষ্য টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে রয়েছে চারলেন বিশিষ্ট ওভারপাস রাস্তা। আরএডিএ’র উদ্যেগে এই প্রথম রাজশাহীতে রাস্তার ভেতরে পানি, গ্যস এবং টিএন্ডটি লাইন আলাদাভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত’ না করে সব কাজ করা যাবে, রাজশাহী কোর্ট হতে বাইপাস এই সড়কে ১০৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বনলতা বাণিজ্যিক এলাকা ৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রসারণ ও আবাসিক এলাকায় উন্নয়ন করা হয়েছে, ৬৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বারনই আবাসিক এলাকায় রাস্তায় কার্পেটিং,ড্রেন নিমার্ণ সহ কালভার্ট ও বিদ্যূৎ লাইন নিমার্ণ স্থাপন করা হয়েছে।
৫৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী মহানগরীর প্রবেশ দ্বার তালাইমারী চত্বরে গাড়ী পার্কিং, এম্পিথিয়েটার,আর্ট গ্যালারী, গ্রাউন্ড ফ্লোরে আধুনিক সাউন্ড সিষ্টেম, লাইটিং, ডিজিটাল স্ক্রীন সম্বলিত স্থায়ী আর্ট গ্যালারী এবং মিউজিয়াম সহ আধুনিক রেষ্টুরেন্ট, অরণ্যে লাইব্রেরী, দৃষ্টি নন্দন ল্যান্ডস্কেপ, উন্মুক্ত স্থানে বসা এবং বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নগরবাসীর বিনোদনের জন্য ৪৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে আরডিএ পার্ক নিমার্ণ করা হয়েছে।
নগরীর সাহেববাজার হতে গৌরহাঙ্গা পর্যন্ত ৪৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে চার লেন বিশিষ্ট রাস্তায় কার্পেটিং, পানি সরবরাহ, কালভার্ট, বিদ্যূৎ সরবরাহ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। গ্রেটার রোড হতে বাইপাস সড়ক পর্যন্ত ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রান্তিক আবাসিক এলাকা উন্নয় প্রকল্পে ১৭২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে।
এছাড়াও প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছে আরডিএ। শহীদ কামারুজ্জামান বাস টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, নাটোর-নবাবগঞ্জ সড়ক সরলীকরণ ও প্রশস্তকরণ, গ্রেটার রোড বর্ধিতকরণ, পার্কের জন্য ভূমি উন্নয়ন, ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, কল্পনা সিনেমা হল হতে সেরিকালচার বিক্রয় কেন্দ্র পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণ, আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণ, প্রিপারেশন অব স্টাকচার প্লান, মাস্টার প্লান এ্যান্ড ডিটেইল্ড এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্লান ফর মেট্রোপলিটন সিটি, গ্রেটার রোড হতে বাইপাস সড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ, সাহেব বাজার হতে গৌরহাঙ্গা মোড় পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ, পদ্মা আবাসিক এলাকা উন্নয়ন, বনলতা বাণিজ্যিক এলাকা উন্নয়ন,পারিজাত আবাসিক এলাকা উন্নয়ন, ছায়ানীড় আবাসিক এলাকা উন্নয়ন, চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকা উন্নয়ন, মহানন্দা আবাসিক এলাকা উন্নয়ন করা হয়েছে আরডিএ’র উদ্যেগে।
সাধারণ মানুষের মধ্যেও রাজশাহীর এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে রয়েছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া। অনেকে বলছেন, আগে যেখানে জলাবদ্ধতা ও ট্রাফিক জ্যাম ছিল সাধারণ বিষয়, এখন সেই জায়গায় প্রশস্ত সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আধুনিক স্থাপনা নজর কাড়ছে।
রাজশাহীকে একটি পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) চেয়ারম্যন এস.এম. তুহিনুর আলম বলেন, ‘প্রতিটি প্রকল্পে আমরা পরিবেশ ও নাগরিক সেবাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। রাজশাহীর উন্নয়নে যেভাবে কাজ করা প্রয়োজন সে অনুযায়ী আমাদের পরিকল্পনা প্রণয়ন চলছে। ইতিমধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অভিজ্ঞ টিম আমাদের সাথে কাজ করছে। নাগরিক সেবা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রদানের জন্য আরডিএ কাজ চলমান। সামনে আমাদের আরো বেশ কিছু কাজ রয়েছে। আশা করছি আমরা নাগরিকদের কাঙ্খিত সেবা প্রদান করতে পারবো।’


প্রকাশিত: July 25, 2025 | সময়: 5:28 am | সুমন শেখ