সর্বশেষ সংবাদ :

বাঘার পদ্মাচরে একরাতে চার বাড়িতে ডাকাতি, পাঁচ দোকানে চুরি

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলের কালিদাস খালী এলাকায় একরাতে চার বাড়িতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে তিনটার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ডাকাতরা প্রায় দশ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার চারদিন আগে ঐ এলাকার দুটি বাজারের পাঁচটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আইন শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন।
চরাঞ্চলের লোকজন ও ভুক্তভোগীরা জানান, ২০ থেকে ২৫ জনের মুখোশ পরা এবং অস্ত্রধারী ডাকাতদল প্রথমে লতিফ মোল্লার বাড়িতে ঢুকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা, আট আনি স্বর্ণের একটি আংটি, একটি জোড়া কানের দুল, ১০ আনি স্বর্ণের একটি চেইন এবং দুটি মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়। এরপর তারা ইউনুস ব্যাপারীর বাড়ি থেকে নগদ ৮ হাজার টাকা, আট আনি স্বর্ণের একটি চেইন, রুপার নুপুর ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এর আগে ইদ্রিস ব্যাপারীর বাড়ি থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, একটি স্বর্ণের চেইন, দুটি রুপার বালা, একটি জোড়া নুপুর এবং তিনটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।
সবশেষে ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে হানা দিয়ে নগদ ৫ লাখ টাকা, দুই ভরির দুটি স্বর্ণের চেইন, চার আনি ওজনের দুটি স্বর্ণের আংটি, এক ভরির একটি কানের দুল ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয়। এরপর ডাকাতদল বাড়িগুলোর আসবাবপত্র তছনছ করে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভুগী লতিফ মোল্লা বলেন, ডাকাতরা ঈঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে এসেছিল। চারটি বাড়ি একে একে লুট করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, চরের মানুষের একেকটা পরিবার একেকটা উচু ভিটায় বসবাস করা। অত্র এলাকায় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে মসজিদের মাইকে মানুষ জড়ো করা হয়। কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আলম বলেন, গত এক মাসে এলাকায় প্রায় ১০টি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে মানুষ চরম আতঙ্কে আছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত পাঁচ দিন আগে ১৫ জুলাই সোমবার রাতে পদ্মার চরাঞ্চলের পলাশী ফতেপুর ও নতুন বাজারে একই রাতে পাঁচটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি গেছে। কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন চোরকে আটক করতে পারেনি।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমি ও সার্কেল এসপি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সাথে চোরদের বিষয়েও খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে, আমরা খুব শিঘ্রই উভয় গ্রুপকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।
তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, ২০০৬ সালের পূর্বে রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তিন সীমান্ত এলাকায় লালচান এবং পান্না বাহিনীর দৌরাত্ব ছিল। সেসময় তারা তিন-চার মাসের ব্যবধানে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষকে খুন করে হালের বলদ ও ফসল লুট সহ অসংখ্য ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।
পরবর্তীতে যৌথ বাহিনীর হাতে দুই বাহিনীর প্রধান লালচার পান্না সহ অনেকেই এনকাউন্টারে মারা যায়। লোকজনের ধারনা, তারই লোকজন আবার নতুন করে গা ঝাড়া দিয়ে উঠছে।


প্রকাশিত: July 20, 2025 | সময়: 4:17 am | সুমন শেখ