সর্বশেষ সংবাদ :

টানা বৃষ্টিতে ঊর্ধ্বমুখী বাজার

স্টাফ রিপোর্টার: টানা বৃষ্টিতে আবারও ঊর্ধ্বমুখী রাজশাহীর কাঁচাবাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম। একইভাবে চিংড়ি ও দেশি মাছের দামেও লেগেছে আগুনের আঁচ। ভোক্তারা বলছেন, বাজারে গেলেই এখন আর টাকায় কূল পাওয়া যায় না। এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টির জন্য বাড়ছে সবজির দাম।
শুক্রবার সরেজমিনে রাজশাহীর সাহেব বাজারে গিয়ে দেখা যায়, করলা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩০ টাকা, পটল ৫০, কাকরোল ৮০, বেগুন ৬০, শসা ১১০ থেকে ১৬০ টাকা। জিঙ্গা, পেঁপে ও কচুর দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে থাকলেও গাজর ও টমেটোর দাম পৌঁছেছে ২০০ টাকায়।
সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি। চিংড়ি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। ১ কেজি ওজনের রুই ও কাতলা আগে ছিল ২৫০ টাকা, বর্তমানে ২৮০ টাকা। বড় পাঙাশ বিক্রি ২৫০, যা আগে ছিল ১৮০ টাকা। সিলভার কার্প বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায়। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে মরিচের বাজারে। এক সপ্তাহ আগেও যা বিক্রি হচ্ছিল ৪০০ টাকায়, এখন তা নেমে এসেছে ২০০ টাকায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন টানা বৃষ্টির জন্যই বাড়ছে দাম। সাহেব বাজারের সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে গ্রামের অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে সরবরাহ কমে গেছে। আর সরবরাহ কমলে তো দাম বাড়বেই। আমরা তো আর ইচ্ছে করে দাম বাড়াচ্ছিনা। আরেক সবজি বিক্রেতা নুর আলম বলেন, এই সময়টাতে শাকসবজির মৌসুম নয়। তার ওপর বৃষ্টি লেগেই আছে। তাই পাইকারিতে দাম বাড়ছে, আমরা তো কেবল সেটা বিক্রি করছি।
বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছে সাধারণ ক্রেতারা। সাহেব বাজারে বাজার করতে আসা সাধারণ গৃহিণী সালমা খাতুন বলেন, শুধু টমেটো গাজর কিনতেই ৪০০ টাকা চলে গেল। মাছ তো ধরতেই পারছি না। শুধু আলু আর ডাল খেয়েই চলতে হচ্ছে।
এদিকে মাছের আমদানি কম থাকায় বাড়ছে মাছের দাম দাবি সাহেব বাজারের মাছ ব্যবসায়ীদের। মাছ বিক্রেতা লতিফ মিয়া বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে মাছের আমদানি অনেক কমেছে। বিশেষ করে বড় মাছ চাষের পুকুরে পানি উঠে গেছে। তাই দাম বাড়ছে। অন্য এক মাছ বিক্রেতা বাবুল হোসেন বলেন,আমরা তো চাষিদের কাছ থেকেই কিনি। সেখানে দাম না কমলে আমরা কী করবো? চিংড়ি বা রুই সবই এখন আগুন দাম।
স্কুল শিক্ষক আবদুল কাদের বলেন, মাঝে মাঝে বাজারে এসে মনে হয় সব ছেড়ে গ্রামে চলে যাই। আয় বাড়ে না, বাজারে দাম বাড়তেই থাকে। কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী রাফি হাসান বলেন, সব কিছুর দাম বাড়ায় আমরা মেসে আর ভালো খেতে পারি না। প্রতিদিন শুধু আলুর তরকারি খেয়ে থাকতে হয়। এতে আমাদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে।
রাজশাহী কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক রোজিনা আফরোজ বলেন, চলমান বর্ষায় সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। প্রয়োজন বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি এবং সুষম আমদানি-রপ্তানি নীতি।


প্রকাশিত: July 19, 2025 | সময়: 4:18 am | সুমন শেখ

আরও খবর