সর্বশেষ সংবাদ :

সংবাদ সম্মেলনে দাবি, পুকুর ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্ব : বিএনপি নেতার চাঁদা দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন

আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াড় আবাসন প্রকল্পের দশ বিঘার পুকুর ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন আবাসনের প্রকল্পের আরেকটি পক্ষ। সেখানে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর রহমান ছোয়াত ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান মুন্নার বিরুদ্ধে চাঁদার টাকা দাবি ও আবাসন প্রকল্পের সভাপতিকে মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়। রোয়াড় আবাসন প্রকল্পে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় আবাসন প্রকল্পের একপক্ষের বাসিন্দারা ছাড়াও রুকিন্দীপুরর বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত শুক্রবার পুকুরটি ইজারা না পাওয়াই বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মোটা অংকের চাঁদা দাবি ও আবাসনের সভাপতিকে মারধরের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন আবাসনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম। এ নিয়ে দৈনিক সমকালে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল।
আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান লিখিত বক্তব্যে বলেন, আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের সামনে রেখে গোপনে কৃষক দলের নেতা আবুল কালাম আজাদ আবাসনের দশ বিঘার পুকুর ইজারা নিয়েছেন। আবুল কালাম আজাদ আবার আওয়ামী লীগের দোসর শাকিলকে সঙ্গে নিয়েছেন। পুকুর ইজারার নয় লাখ টাকার মধ্যে দুই লাখ টাকা পুকুরপাড় সংস্কারের জন্য ইউএনও স্যারের কাছে জমা দেওয়া কথা ছিল। পুকুরপাড় সংস্কারের দুই লাখ টাকা ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া হয়নি। দাদন ব্যবসায়ী কৃষক দল নেতা আবুল কালাম আজাদ পুকুর সংস্কারের সেই দুই লাখ টাকা আত্মসাতের চক্রান্ত করেন।
তিনি আবাসন প্রকল্পের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ব্যবহার করে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিরুদ্ধ চাঁদা চাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আমরা কৃষক দল নেতা আবুল কালাম আজাদ, আবাসন প্রকল্পের সভাপতি ইদ্রিস আলী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমের শাস্তির দাবি করছি।
রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর রহমান ছোয়াত বলেন, আবাসন প্রকল্পের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ একটি পক্ষকে হাত করে কৃষক দল নেতা ও কুখ্যাত দাদন ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ পুকুর ইজারা নিয়েছেন।
তিনি পুকুরপাড় সংস্কারের দুই লাখ টাকা আত্মসাত করার উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে চাঁদা চাওয়ার অসত্য অভিযোগ তুলে আবাসনের একটি পক্ষকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করিয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা।
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাহমুদুল হাসান মুন্না বলেন, পুকুরপাড় সংস্কারের দুই লাখ টাকা আত্মসাতের জন্য আমার বিরুদ্ধে চাঁদা চাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমি চক্রান্তকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করছি।
কৃষক দলের নেতা আবু কালাম আজাদ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আবাসন প্রকল্পের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে সমিতির লোকজন পুকুরটি ইজারা নিয়েছে। এখানে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আবাসনের আরেকটি পক্ষ পুকুরটি ইজারা না পেয়ে তারা আমার বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
আবাসন প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন, পুকুরের ইজারা নিয়ে আমাদের নিজের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। ৩২ ঘরের মধ্যে আমরা সভাপতি-সম্পাদকসহ ২৫ ঘর নিজেরাই ইজারা নিয়ে পুকুরে মাছ চাষ করার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু আব্দুল হান্নানসহ সাত ঘর তাতে বাধা দেন। তাঁরাও পুকুর ইজারা নিতে চান। তারা ইজারা না পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছোয়াত এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মুন্নাকে সাথে নিয়ে আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়াই মুন্না আবাসনের সভাপতি ইদ্রিস আলীকে রাতের বেলা মারধর করে। বর্তমানে ইদ্রিস আলী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে।
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল আলম বলেন, আবাসনের একটি পক্ষ ৯ লাখ টাকায় পুকুর ইজারা নিয়েছেন। তাদের দুই পক্ষের বিরোধ থাকায় পুকুর সংস্কারের দুই লাখ টাকা উপজেলা পরিষদের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই টাকা এখনো জমা দেয়নি।


প্রকাশিত: July 8, 2025 | সময়: 5:30 am | সুমন শেখ