সর্বশেষ সংবাদ :

নথি জালিয়াতি : কক্সবাজারের সাবেক ডিসি, সাবেক জেলা জজসহ ৫ জনের বিচার শুরুর আদেশ

সানশাইন ডেস্ক: মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত মামলার নথি জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক ও সাবেক জেলা জজসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ আদেশ দেন। আগামী ৩ অগাস্ট থেকে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের পিপি কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু বলেন, “আজ আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি শেষে আদালত বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন। ৩ অগাস্টে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন পর্যন্ত আসামিরা জামিনে থাকবেন।”
মামলার আসামিরা হলেন- কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন, কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়েল নাজির স্বপন কান্তি পাল, কক্সবাজারের সাবেক জেলা ও দায়রা জজ সাদিকুল ইসলাম তালুকদার, এবং কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্টেনোগ্রাফার জাফর আহম্মেদ। এর আগে গত ১৭ জুন এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ছিল। সেদিন আসামিদের করা সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেছিল আদালত।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, জমি অধিগ্রহণের প্রায় ২৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৯ নভেম্বর একটি মামলা হয়। এতে আসামি করা হয় তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনসহ ২৮ জনকে। মামলায় বাদী হন মাতারবাড়ী এলাকার বাসিন্দা একেএম কায়সারুল ইসলাম চৌধুরী।
ওই মামলার বাদির সই ও নথি জালিয়াতি করে আসামির তালিকা থেকে রুহুল আমিনের নাম বাদ দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় একেএম কায়সারুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে সাতজনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেন। ওই অভিযোগের তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১ জুলাই দুদক কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
পিপি কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু বলেন, “দুদকের তদন্তে সিআইডির রাইটিং এক্সপার্টের মতামত নেওয়া হয়। সেই প্রতিবেদনে প্রথম মামলার বাদীর সই জাল করার প্রমাণ পাওয়া যায়।” ৫ আসামির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় দুদকের দেওয়া প্রতিবেদন আমলে নিয়ে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে কক্সবাজার জেলার বিশেষ জজ আদালত। পরে আসামিরা আদালত থেকে জামিন নেন।
গত ২০ মে কক্সবাজার বিশেষ জজ আদালতে ৫ আসামির বিরুদ্ধে দুদকের দেয়া অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়। এরপর অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য মামলাটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে ২৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচার কাজ শুরু হয়েছে।


প্রকাশিত: July 2, 2025 | সময়: 4:23 am | সুমন শেখ