, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারার বাসুপাড়া ইউনিয়নের মোহম্মাদপুর বিলে প্রভাবশালীরা জোর পূর্বক দখল নিয়ে মাছচাষকে কেন্দ্র করে মৎস্যজীবি ও জমির মালিকদের সাথে প্রতিপক্ষের চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বিলে মৎস্যজীবিদের বিলে মাছ ধরতে নামতে না দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় বিলের ধারের মৎস্যজীবি ও স্থানীয় জমির মালিকরা রোববার বিকালে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। এদিকে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে একটি মহল ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের মোহম্মাদপুর বিলের চারপাশে বালানগর, বাগমারা, একডালা, মাঝিগ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের শতশত জমির মালিক রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় বিলের ধারের শত শত পরিবার ওই বিলে মৎস্য আহারণ করে জীবন যাপন করে। সম্প্রতি বিলটি ফ্যাসিস্ট আ’লীগের পেতাত্বা মোহম্মাদপুর গ্রামের আজিজুল হক, আমজাদ হোসেন, রাজু, বেলাল, সাঈদ হোসেন, আতাব আলী, মুক্তাহার সহ কতিপয় ব্যক্তি গোপনে মাছ ছাড়ার নামে পুরা বিলটি দখল নিয়ে বিলের ধারের মৎস্যজীবিদের মাছ ধরতে দিচ্ছে না। মাছ ধরতে গেলে যুগ যুগ ধরে মাছ ধরে যারা জীবন অতিবাহিত করে তাদের জাল-দড়ি জোর পূর্বক নিয়ে যাচ্ছে।
এ ঘটনার জের গত শনিবার মৎস্যজীবি মোহম্মাদপুর গ্রামের মৎসজীবি ফহিম আলী, আলমগীর হোসেন, সাহেব আলীসহ স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরতে গেলে একই গ্রামের আজিজুল হক, আমজাদ হোসেন, রাজু, বেলাল সহ কতিপয় দু¯ৃ‹তিকারী তাদের জাল-দড়ি নিয়ে যায়। অসহায় মৎস্যজীবি ফহিম সন্ধ্যায় জাল-দড়ি চাইতে গেলে তাকে জাল না দিয়ে মারপিট শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসীদের মধ্যে উত্তেজন সৃষ্ঠি হয়। গ্রামবাসী একাত্রিত হয়ে বিল দখলদারদের প্রতিরোধ করতে গেলে তারা পালিয়ে যায়। অগত্যে গ্রামবাসীদের উপর প্রতিশোধ নিতে তারা কৌশল অবলম্বন করে।
গ্রামের মরুব্বি ও মাতাব্বরদের হেনাস্থার পথ বেছে নেয়। গ্রামের বিএনপি নেতা ইয়ামেন বলেন, যারা বিলে মাছচাষ করতে চাচ্ছে তারা ২৪ এর জুলাই-আগষ্টের অপশক্তি। বিগত আ’লীগ সরকারের আমলে দলের সাথে কাঁধে কাঁধ রেখে এলাকায় বিভিন্ন অপ কর্মে লিপ্ত ছিলেন। বর্তমানে তারা কৌশল অবলম্বন করে দল পাল্টিয়ে বিএনপি’র একটি অংশের সাথে হাত মিলিয়ে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছেন। এরই অংশ হিসেবে গত শনিবার মৎস্যজীবিদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হলে তার দলের একটি অংশের নেতার লোক বলে অপপ্রচার করে। তাতে দলের লোকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দলের ইউনিয়ন বিএনপি ও কৃষক দলের নেতাকে লাঞ্চিত করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ও বিল উন্মুক্ত রাখার দাবিতে রবিবার বিকালে মোহম্মাদপুর বাজারে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে স্থানীয় এক কৃষক দলের নেতাকে লাঞ্চিত করায় সমবেশে বিএনপি’র ও উপজেলা কৃষকদলের নেতা কর্মীরা যোগ দেন। প্রতিবাদ সভায় বাসুপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়েন উদ্দিন বলেন, বিল দখল নিয়ে মাছ চাষে স্থানীয় বিলের চারিপাশের জমির মালিক ও মৎস্যজীবিদের মধ্যেদের বিরোধ অনাকাঙ্খীত। সারা জীবন বিলটি উন্মুক্ত ছিল। এবারে প্রভাব খাটিয়ে বিল দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিল দখলের সাথে যারা জড়িত তারা সবাই ফ্যাসিস্ট আ’লীগের লোক। এদের সাথে বিএনপির কোন সম্পর্ক নেই।
কিন্তু বিষয়টি ভিন্ন দিকে প্রভাহিত করতে দলের একটি অংশের সাথে আতাঁত করে বিভান্ত ছড়ানের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে না বুঝে দলের মধ্যে কয়েকজন কর্মী মহব্বত আলী, আলমগীর হোসেনসহ কতিপয় দলীয় লোক শৃঙখলা ভঙ্গ করে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপর চড়াও ও লাঞ্চিত করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রতিবাদ সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক প্রভাষক আব্দুল জলিল, উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক মাস্টার জিল্লুর রহমানসহ সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় বক্তারা কৃষকদলের নেতা ইয়ামেন ও ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক এক মেম্বরকে লাঞ্চিত করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাত জানান তারা।