সর্বশেষ সংবাদ :

বৃষ্টিতে ডুবেছে বিলের ধান, কৃষকের ভোগান্তি

সবুজ ইসলাম: বর্ষা মৌসুম শুরু হয়নি। যারা দেরিতে রোপন করেছেন তাদের ধান মাঠেই আছে। সপ্তাহের মধ্যেই ঘরে উঠতো। কিন্তু বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। বিশেষ করে যাদের ধান বিলে আছে সেসব কৃষক পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। বৃষ্টির পানিতে বিলে পানি জমতে শুরু করেছে। শুক্রবার (২৩মে) থেকে প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। এতে অনেকের ধানক্ষেত ডুবেছে। রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে গত ৫ দিনে রাজশাহীতে ১৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং সোমবার (২৬ মে) ২৮.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সোমবার (২৬ মে) সকালে রাজশাহীর কয়েকটি উপজেলা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে ধান ক্ষেতে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিলের নিচু জমিতে আবার হাঁটু পর্যন্ত পানিতে ধানের গাছ ভেসে আছে। জেলার বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের বিল ধোরশা গ্রামে দেখা যায় বৃষ্টির মধ্যেই জমি থেকে বোরো ধান ঘরে তুলতে কৃষক ব্যস্ত সময় পার করছে। টানা বৃষ্টি হওয়ার ফলে বিলের প্রায় সব জমির ধানই হেলে পড়ে গেছে। এমতাবস্থায় এই ধান কাটতে লাগছে বাড়তি শ্রমিক।
উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের বিল ধোরশা গ্রামের জসিম আলী নামের এক কৃষক বলেন, ‘আমাদের কত কষ্টের ফসল এভাবে পানিতে পড়ে আছে। আমরা এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। এই ধান পানি জমিতে কেটে রাখলে পানি ঢুকে গাছ বের হবে। আবার এই হাটু পর্যন্ত পানির ভিতরে ধান ঘরে তোলাও যাচ্ছে না। আমরা এক বেকায়দা অবস্থায় পড়েছি।’
বাগমারা উপজেলার দামনাশ বাজারে পাশের বিলে সাইদুল করিম নামের কৃষক তার তিন বিঘা জমিতে ব্রি-৭৫ জাতের ধান লাগিয়েছেন। এই সময়ে বৃষ্টি হওয়ার ফলে তার ক্ষেতের পরিপক্ক হওয়া ধানের অধিকাংশই ক্ষেতে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এই বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু শেষ সময়ে এসে আমাদের পাকা ধান জমিতে বৃষ্টির পানির ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। বৃষ্টির ভেতরে ধান ঘরে তুলতে যেমন বাড়তি শ্রমিক প্রয়োজন হচ্ছে, আবার কাদার ভেতরে জমি থেকে ধান তোলাও যাচ্ছে না। এগুলো নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।
মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটি ইউনিয়নেও বৃষ্টির পানির কারণে কৃষক জমি থেকে ধান ঘরে তুলতে বেগ পেতে হচ্ছে। সাইদ আলী নামের এক কৃষক জানান, কয়েকদিন থেকে টানা বৃষ্টি হওয়ার ফলে তাদের জমির ধান ঘরে তুলতে সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টির ভেতরে ধান মাড়াই ও প্রক্রিয়াজাত করা অনেকটাই কষ্ট সাধ্য হচ্ছে। জমিতে ধান ভেজা ও গাছ নরম হয়ে যাওয়ায় মাড়াই মেশিনে এই ধান প্রক্রিয়াজাত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার বাগধানী বিলের কৃষক রাকিব আলী বলেন, ‘গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে পারছি না। টানা বর্ষণের ফলে জমিতে বৃষ্টির পানি জমে গেছে। বৃষ্টিপাত যদি কমে তাহলে পানি শুকাতে ৩ থেকে ৪ দিন সময় প্রয়োজন। নতুবা ধানের গাছ পচে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে লোকসান হবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, এইবছর রাজশাহীতে ৬৮ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে ধানের উৎপাদন লক্ষমাত্রা ৩ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। এর ভিতরে এখন পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ ধান কাটা ও মাড়াই করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, ‘এইবছর আমাদের ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে জমিতে যে ধান আছে সেগুলো পাকা অবস্থায় রয়েছে। আমরা কৃষকদের সবসময় পরামর্শ দেই পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলার জন্য। আর এখন আবহাওয়ার খবর আগেই পাওয়া যায়, সে অনুযায়ী রোদ দেখে ধান কর্তন করতে হবে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে যেহেতু ধান ভিজে গেছে সেগুলো মেশিনে মাড়াই করতে হবে।”
রাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এইবছর রাজশাহীতে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি। এপ্রিল মাসেও বৃষ্টি হয়েছে আবার মে মাস জুড়েও বৃষ্টি হচ্ছে। ভালো আবহাওয়া পেতে এখনো কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।’


প্রকাশিত: May 27, 2025 | সময়: 4:23 am | সুমন শেখ

আরও খবর