সর্বশেষ সংবাদ :

সোনামসজিদ পথে আমদানী-রপ্তানী স্বাভাবিক হলেও বিপাকে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানীকারকরা

এ কে এস রোকন, শিবগঞ্জ: স্থলবন্দরগুলো দিয়ে ভারত বেশকিছু পণ্য আমদানী নিষিদ্ধ করায় ঐসব পণ্য সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়েও রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এতে করে বিপাকে পড়েছে গার্মেন্টস পণ্য তৈরী পোষাক রপ্তানীকারকরা। তবে কাষ্টমস কর্মকর্তাদের কলম বিরতি বেলা ৩ পর্যন্ত থাকলেও আমদানী স্বাভাবিক রযেছে। কর্মবিরতি শেষে বিকেলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেয়।
এ বন্দর দিয়ে ৫-৭ জন রপ্তানীকারক গামেন্টস পণ্য, জুট পণ্য, আর এফ এলের কিছু পণ্য, কিছু ফাস্টফুড পণ্য এবং তুলাজাতীয় পন্য রপ্তানী করে থাকে। এ বন্দর দিয়ে মাত্র ৫ প্রকারের পণ্য রপ্তানী হলেও রপ্তানী নিষিদ্ধের তালিকায় শুধু গার্মেন্টস পণ্য রয়েছে। ভারতের নতুন ভাবে নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় এ বন্দর দিয়ে শুধু গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানীতে বাধাগ্রস্থ হবে। এতে রপ্তানীতে তেমনএকটা প্রভাব পড়েনি। রবি ও সোমবার অন্যান্য পণ্য রপ্তানি হলেও কোন গামেন্টস পণ্য রপ্তানী হয়নি।
সোনামসজিদ স্লল কাস্টমস কর্তপক্ষ জানিয়েছে গত ৬ মাসে এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৪ হাজার মে.টন তৈরী পোষাক রপ্তানী হয়। যার রপ্তানী মূল্য প্রায় ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৩৯১ ডলার। রপ্তানী হওয়া পোষাকের তালিকায় রয়েছে শাড়ি, লুঙ্গি, সোয়েট শার্ট ও টি-শার্ট। এসব পণ্যের বেশির ভাগ বন্দরঘেঁষা মালদা জেলায় রপ্তানী হয়ে থাকে।
সোনামসজিদ বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল হোসেন জানান, শনিবার ৩ ট্রাক গামেন্টস পণ্য সহ রবিবার এ বন্দর দিয়ে ১২ ট্রাক, পাট জাত পণ্য ও চটের বস্তা রপ্তানী হয়েছে এবং আমদানী হয়েছে ৩ শ ট্রাক বিভিন্ন পণ্য।
এছাড়া সোমবার বেলা ৬টা পর্যন্ত ১৯০টি ভারতীয় পণ্য বাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং ৪টি পাটজাত পণ্যের ট্রাক ভারতে প্রবেশ করেছে। রবিবার একটি পোষাকের ট্রাক ভারতে প্রবেশ করতে না পেরে বন্দর থেকে দেশের অভ্যান্তরে ফেরত গেছে। তবে রপ্তানী নিষিদ্ধের তালিকায় থাকা কোন পণ্য রবিবার এ বন্দরে আসেনি বা বন্দরে আটকে পড়েনি।
রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান জয়নাল আবেদিন ট্রের্ডাসের সত্বাধিকারী আব্দুল আওয়াল জানান, তিনি গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানী না করলেও এ বন্দর দিয়ে মূলত ২ জন রপ্তানী করে থাকে। ভারতের নতুন এ নিষেধাক্কার কারণে এ বন্দরে রপ্তানীতে খুব একটা প্রভাব পড়বে না।
জোহরা এন্টারপ্রাইজের মালিক নূর আমীন বলেন, এ বন্দর দিয়ে বড় চালান না গেলেও ছোট ছোট চালানে পোষাক রপ্তানী হয়, যা বড় ব্যবসায়ীদের মত সমুদ্র বন্দর বা আকাশ পথে রপ্তানী করতে পারবে না। মূলত ছোট রপ্তানীকারকরাই এ আদেশে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হলো।
অপর সিএ্যান্ড এফ এজেন্ট রুহুল আমিন জানান, ভারতের রপ্তানী নিষিদ্ধের তালিকায় যেসব পণ্য আছে তার মধ্যে শুধু গার্মেন্টস পণ্যটি এ বন্দর দিয়ে রপ্তানী হতো। তবে সমুদ্র ও আকাশপথে রপ্তানীর সুযোগ থাকায় এবং গার্মেন্টস পণ্য ঢাকা হয়ে রপ্তানী হওয়ায় এ বন্দরে দেমন একটা প্রভাব পড়বে না।
গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানীকারক রওশন আলী জানান, শনিবার তার ৩টি গার্মেন্টস পণ্যের ট্রাক ভারতে রপ্তানী করলেও রবিবার কোন পণ্য পাঠাতে পারেননি। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও ৬০-৭০ ট্রাক গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানীর আদেশ ছিল। কিন্তু ভারতের আকস্মিক এ সিদ্ধান্তের কারণে তিনি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, সাপটা চুক্তির আওতায় চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তার ৬০-৭০ ট্রাক এসব পণ্য রপ্তানীর আদেশ থাকলেও ভারতের আকস্মিক এ আদেশ হতাশাজনক। ভারতের আমদানীকারকদের দেয়া গার্মেন্টস পণ্যের আদেশের বিষয়টি সংষিøষ্ট আমদানীকারক সহ ভারতীয় কর্তপক্ষকে বিবেচনার জন্য জানানো হয়েছে।
সোনামসজিদ বন্দরের কাস্টমস সহকারী কমিশনার আরিফুল ইসলাম জানান, নতুন এ নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্যান্য বন্দরের মত কোন রপ্তানীযোগ্য পণ্য আটকা পড়েনি।


প্রকাশিত: May 20, 2025 | সময়: 4:16 am | সুমন শেখ