সর্বশেষ সংবাদ :

এলডিসি উত্তরণ আগামী বছরেই: অর্থ উপদেষ্টা

সানশাইন ডেস্ক: নির্ধারিত সময়েই উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেছেন, “আমরা চেষ্টা করতেছি, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণ করতে ২০২৬-এ। এটা নিয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে, গ্রাজুয়েশন করেন না করেন- বাট উই ডিসাইডেড দ্যাট অ্যান্ড উই উইল গো ফর দ্যাট। এর জন্য যা যা প্রিপারেশন করার- আমরা করব।” শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও মাস্টারকার্ডের যৌথ কার্ডসেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের দিন ঠিক করা আছে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর। বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে কাতারে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে সম্প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। সালেহউদ্দিন বলেন, তিনি আশা করেন, এলডিসি উত্তরণে দেশের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসবেন। “ধীরে সুস্থে না খালি, উই উইল গো ফাস্টার; কারণ অন্যান্য কান্ট্রি অনেকদূর এগিয়ে গেছে। আমরা যেন একটা জায়গায় আটকে না পড়ি।”
২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম বৈঠকের ৪০তম প্লেনারি সভায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গত বছরের ৪ থেকে ৮ মার্চ জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা সিডিপির পর্যালোচনা বৈঠকে বলা হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণ হয়েছে কিংবা হওয়ার পথে রয়েছে এমন দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশই টানা তিনটি মূল্যায়নে সব সূচকে পাস করেছে।
বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ইউরোপের রপ্তানি বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে ২০২৬ সালের পর সেই সুবিধা আর থাকবে না। মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও মাস্টারকার্ডের যৌথ কার্ডসেবার বিষয়ে সালেহউদ্দিন বলেন, “আমরা যেহেতু বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চাচ্ছি, এটা (নতুন কার্ডসেবা) বেসরকারি খাতে কাজে লাগবে। মার্কেন্টাইল এবং মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।”
ক্যাশলেস অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে নানা নীতি সহায়তা দেওয়ার ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। মাস্টারকার্ডের সঙ্গে মার্কেন্টাইল ব্যাংক যেসব কার্ড এনেছে, তার মধ্যে রয়েছে- মাস্টারকার্ড টাইটেনিয়াম ক্রেডিট কার্ড, ওয়ার্ল্ড মাস্টারকার্ড ক্রেডিট কার্ড, মাস্টারকার্ড ডেবিট কার্ড, মাস্টারকার্ড প্লাটিনাম গ্লোবাল ডেবিট কার্ড এবং মাস্টারকার্ড প্রিপেইড কার্ড।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এসব কার্ডে রয়েছে ‘কন্টাক্টলেস প্রযুক্তি’, ‘ডুয়াল কারেন্সি’ সুবিধা এবং ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ নিরাপত্তাব্যবস্থা। কার্ড ব্যবহারকারীরা ভ্রমণ, লাইফস্টাইল ও রেস্তোরাঁয় খরচের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় ও সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এছাড়া মাস্টারকার্ড ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ৯ সহস্রাধিক পার্টনার মার্চেন্ট আউটলেটে থাকছে আকর্ষণীয় অফার ও ডিসকাউন্ট। তাছাড়া দেশি-বিদেশি এটিএম থেকে যেকোনো সময় নগদ টাকা তোলার সুবিধাও রয়েছে।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মতিউল হাসান বলেন, “আমরা মাস্টারকার্ডের সঙ্গে অংশীদারত্বে নতুন ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ড পণ্যসমূহ চালু করতে পেরে গর্বিত। আমাদের সদ্য অর্জিত ‘প্রিন্সিপাল মেম্বারশিপ’-এর আওতায় চালু হওয়া এই কার্ডগুলো প্রাহকদের জন্য আধুনিক ও গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ।
“উন্নত বৈশিষ্ট্য ও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতাসহ এই কার্ডগুলো গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা, নিরাপত্তা ও মূল্য নিশ্চিত করবে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্যাশলেস ও ডিজিটালি সক্ষম সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আমাদের অব্যাহত প্রচেষ্টার অংশ।” মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, “এই কার্ডগুলো গ্রাহকদের পরিবর্তনশীল চাহিদা ও প্রত্যাশা পূরণে সহায়তা করবে এবং সীমাহীন ও নির্বিঘ্ন লেনদেনের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মাঝে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার প্রসারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জাকির হোসেন চৌধুরী, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক, মাস্টারকার্ড সাউথ এশিয়া ডিভিশনাল প্রেসিডেন্ট গৌতম সাগরওয়াল, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিও জাহিদ হোসেন এবং সিএফও তাপস চন্দ্র পাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


প্রকাশিত: May 18, 2025 | সময়: 4:13 am | সুমন শেখ

আরও খবর